বুধবার রাতেই রাজ্য পুলিশের তরফে প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, লিটন হালদারকে ডিআইবির ইন্সপেক্টর পদে জলপাইগুড়িতে স্থানান্তর করা হয়েছে। একাধিক থানার পদাধিকারীদের বদল সংক্রান্ত ওই তালিকার মধ্যে অবশ্য সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে এই বদলিকে কেন্দ্র করেই।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 27 November 2025 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ বীরভূমের বোলপুর থানার (Bolpur Police Station) আইসি লিটন হালদারকে (IC Litan Das) শেষ পর্যন্ত সরিয়েই দেওয়া হল। বোলপুর থানা থেকে তাকে পাঠান হল জলপাইগুড়িতে। বুধবার রাতেই রাজ্য পুলিশের তরফে প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, লিটন হালদারকে ডিআইবির ইন্সপেক্টর পদে জলপাইগুড়িতে স্থানান্তর করা হয়েছে। একাধিক থানার পদাধিকারীদের বদল সংক্রান্ত ওই তালিকার মধ্যে অবশ্য সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে এই বদলিকে কেন্দ্র করেই।
কয়েক মাস আগের ঘটনা। এ বছর (২০২৫) মে মাসের শেষের দিকে এক ভাইরাল অডিও ক্লিপ (Viral Audio Clips) সামনে আসে। যেখানে দুই ব্যক্তিকে কথা বলতে শোনা যায়। অভিযোগ ওঠে ওই ফোনের একদিকে ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল ও অন্যদিকে ছিলেন বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদার। অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি জেল থেকে বেরোনোর পর ফোনে লিটন হালদার ও তাঁর মা–বৌকে কটূক্তি ও গালিগালাজ করেছিলেন। সেই অডিয়ো ক্লিপ ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media)।
কেষ্ট অনুগামীরা এরপর বোলপুর থানা ঘেরাও করে আইসিকে সরানোর দাবিতে বিক্ষোভও দেখায়। যদিও অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) তখন বলেছিলেন— “আইসি লিটন হালদার কোথাও যাচ্ছে না।” সেই অডিও ক্লিপের সত্যতা অবশ্য দ্য ওয়াল যাচাই করেনি, কিন্তু শোনা যায় সেই ক্লিপ সামনে আসার দিন দুয়েকের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অনুব্রত মন্ডলও একটা সাদামাটা বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চান।
তবে সেই ঘটনায় পুলিশের উপর চাপ বাড়তে থাকার কারণে শেষে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। আইসি-র দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে চারটি ধারায় মামলা করে পুলিশ। সেই মামলা এখনও চলছে। এর মধ্যেই বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্য পুলিশের বদলি সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা সামনে এসেছে যেখানে একযোগে ১৭৫ জন পুলিশ পদাধিকারীকে বদলি করা হয়েছে। অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই উঠেছে প্রশ্ন। যদিও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে এটি নিছক রুটিন বদলি বলেই দাবি করা হয়েছে।
এই বদলির ঘটনায় ফের একবার সেই অডিও ক্লিপের ঘটনা সামনে চলে আসছে। বিরোধীদের অভিযোগ, যিনি কটূক্তি করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না, উল্টে যাঁকে অপমান করা হয়েছে তাঁকেই সরিয়ে দেওয়া হল। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে - কেষ্টর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ পুলিশ করল না অথচ অপমানিত আধিকারিককেই সরিয়ে দেওয়া হল।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কারা কোথায় যাচ্ছেন?
নির্দেশিকায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বদলি - সিউড়ি থানার দায়িত্ব পেলেন পূর্ব বর্ধমান সার্কেল ইনস্পেক্টর শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়।
রামপুরহাট থানার দায়িত্ব পাচ্ছেন বীরভূম সাইবার ক্রাইম থানার আইসি সৌম্য দত্ত।
সিউড়ির আইসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় যাচ্ছেন হাওড়া জিআরপি–তে।
রামপুরহাটের আইসি সুকমল ঘোষ–কে পাঠানো হয়েছে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের আইসি সুজয় বিশ্বাস যাচ্ছেন রাজ্য পুলিশের আইবি–তে।
মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের সিআই সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় যাচ্ছেন বসিরহাটে।
এদিকে, বোলপুর থানার দায়িত্ব কে নিচ্ছেন তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এই অনিশ্চয়তা আরও জোরালো করেছে রাজনৈতিক বিতর্ক।