বুধবার রাজ্যের উচ্চ আদালত জানায়, এবার থেকে এই মামলার শুনানি হবে পূর্ব বর্ধমান জেলার আদালতে। এত দিন বীরভূম জেলার রামপুরহাট মহকুমা আদালতেই চলছিল বগটুই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 January 2026 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বগটুই গণহত্যাকাণ্ডের (Bogtui Incident) তদন্তে অসুবিধার কথা জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সিবিআই (CBI)। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই মামলার শুনানি স্থানান্তরের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
বুধবার রাজ্যের উচ্চ আদালত জানায়, এবার থেকে এই মামলার শুনানি হবে পূর্ব বর্ধমান জেলার আদালতে (Purba Burdwan Court)। এত দিন বীরভূম জেলার রামপুরহাট মহকুমা আদালতেই চলছিল বগটুই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি ছিল, মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করার একাধিক চেষ্টা চলছে। সিবিআইয়ের তরফে আদালতে জানানো হয়, প্রায় ১০০ জন সাক্ষীকে চাপের মুখে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সাক্ষ্য দিতে এসে আদালতে অনেকেই আগের বয়ান বদলে ফেলছেন বলেও অভিযোগ তোলে সিবিআই। এই পরিস্থিতিতে সাক্ষীদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে মামলাটি অন্য জেলায় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
বুধবার বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি মামলাটি রামপুরহাট থেকে সরিয়ে পূর্ব বর্ধমান আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বার্থে ও সাক্ষীদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। উল্লেখ্য, রাজ্যে এর আগেও কামদুনির মতো সংবেদনশীল মামলার শুনানি অন্য জেলায় সরানো হয়েছে।
২০২২ সালের ২১ মার্চ রাতে রামপুরহাট থানার অন্তর্গত ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বগটুই মোড়ে বোমা মেরে খুন করা হয় স্থানীয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান ভাদু শেখকে। অভিযোগ, ওই খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাদু শেখের অনুগামীরা বগটুই গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই ঘটনায় এক শিশুকন্যা-সহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়।
প্রথমে রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিটের কাছ থেকে তদন্তভার নিয়ে নেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই মামলায় তৎকালীন রামপুরহাট ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আনারুল হোসেন-সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট জমা দেয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত লালন শেখকে ঘটনার প্রায় ন’মাস পরে গ্রেফতার করে সিবিআই। তবে ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর সিবিআই হেফাজতে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
সিটের তদন্তে প্রথমে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পরে সেই তালিকায় আরও তিন জনের নাম যুক্ত করা হয়। এই তদন্তে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেই মামলাটি স্থানান্তরের আবেদন করেছিল সিবিআই। আদালতের বুধবারের নির্দেশের পর এখন পূর্ব বর্ধমান আদালতেই চলবে বগটুই গণহত্যা মামলার পরবর্তী শুনানি।