চিতায় তোলা হবে। সেই সময়েই হঠাৎ নড়ে উঠল দেহ (Dead Body)! মুহূর্তে শোরগোল পড়ে গেল কোচবিহার মহাশ্মশানে (Cooch Behar)। এই অদ্ভুত ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক, অবিশ্বাস আর চাঞ্চল্যে ভরে ওঠে গোটা এলাকা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 October 2025 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিতায় তোলা হবে। সেই সময়েই হঠাৎ নড়ে উঠল দেহ (Dead Body)! মুহূর্তে শোরগোল পড়ে গেল কোচবিহার মহাশ্মশানে (Cooch Behar)। এই অদ্ভুত ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক, অবিশ্বাস আর চাঞ্চল্যে ভরে ওঠে গোটা এলাকা। কেউ বললেন “দেখেছি, নড়েছে!” আবার কেউ দাবি করলেন, “দেহ এখনও গরম!” শেষমেশ তড়িঘড়ি দেহ ফেরত পাঠানো হল হাসপাতালে (Cooch Behar Hospital)। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিলেন, “না, মানুষটি মৃতই।”
ঘটনা কোচবিহারের এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের। গত ১ অক্টোবর গুড়িয়াহাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নিউ পাটাকুড়া এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ সরকার (৪০) হঠাৎ শ্বাসকষ্টে ভুগে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। পেশায় তিনি রংমিস্ত্রি ও টোটোচালক। চিকিৎসা চলছিল ঠিকঠাকই, কিন্তু সোমবার সকাল ৯টা নাগাদ তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় দেহ ও মৃত্যুর শংসাপত্র।
পরিবার দেহ নিয়ে আসে বাড়িতে, সেখান থেকে যায় শ্মশানে। সব আচার বিধির প্রস্তুতি সেরে চিতা তৈরি। ঠিক তখনই কেউ লক্ষ্য করেন, দেহটি যেন একটু নড়ল! কেউ বললেন, “চোখের সামনে দেখেছি,” আবার কেউ বললেন, “এখনও শরীর গরম।” মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে গুজব, জীবিত মানুষকে কি মৃত ঘোষণা করেছিল হাসপাতাল?
পরিবার তড়িঘড়ি টোটো ডেকে ফের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় এমজেএন মেডিকেলে। সেখানে নতুন করে পরীক্ষা করেন চিকিৎসকেরা। তারপর জানান, প্রদীপবাবু আসলেই মৃত, কোনও প্রাণচিহ্ন নেই।
এমএসভিপি সৌরদীপ রায় বলেন, “মৃত্যুর পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় শরীরে রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কখনও কখনও পেশি নড়ে ওঠে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘রাইগর মর্টিস’ বলা হয়। এটা খুবই স্বাভাবিক।” তাঁর মতে, “এই কারণেই সাধারণত হাসপাতাল মৃত্যু-পরবর্তী ৩-৪ ঘণ্টা দেহ পর্যবেক্ষণে রাখে। কিন্তু এখানে এক ঘণ্টার মধ্যেই দেহ ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।”
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল যথাযথ সময় অপেক্ষা না করেই দেহ তুলে দেয়, যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।