যে সব বিএলও-রা এসআইআরের কাজ শুরু করেছেন, তাদের একাংশ আগেই কলকাতার প্রশিক্ষণ শিবিরে নিজেদের দাবি নিয়ে সরব হন। আর কাজ শুরু পর অনেকের বক্তব্য, কারও কারও কাছে স্মার্টফোনই ছিল না; বাধ্য হয়ে নতুন ফোন কিনতে হয়েছে।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 4 November 2025 18:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) শুরুর আগে থেকেই ক্ষোভ বাড়ছিল বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) মধ্যে। একে তো চাকরির পাশাপাশি এসআইআর-এর কাজ করা নিয়ে অসন্তোষ, তার ওপর তথ্য সংগ্রহের সময় ব্যক্তিগত স্মার্টফোন (Smart Phone) ও মোবাইল ডেটা (Mobile Data) ব্যবহার! সবমিলিয়ে ক্ষুব্ধ হচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু এসবের মধ্যেই বড় ঘোষণা হয়েছে। সাম্মানিকের সঙ্গেই এসআইআরের কাজের জন্য উৎসাহ ভাতা (Insentive) পাবেন বিএলও-রা।
যে সব বিএলও-রা এসআইআরের কাজ শুরু করেছেন, তাদের একাংশ আগেই কলকাতার (Kolkata) প্রশিক্ষণ শিবিরে নিজেদের দাবি নিয়ে সরব হন। আর কাজ শুরু পর অনেকের বক্তব্য, কারও কারও কাছে স্মার্টফোনই ছিল না; বাধ্য হয়ে নতুন ফোন কিনতে হয়েছে। আবার যাঁদের ফোন ছিল, তাঁদের ডেটা রিচার্জ করতেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁদের জন্য উৎসাহ ভাতার ঘোষণা হল।
বিএলও-রা (BLO) আগে প্রতি বছর ছ’হাজার টাকা সাম্মানিক পেতেন। এখন তা বৃদ্ধি করে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। যদিও তাঁদের দাবি, ফোন কেনা আর ডেটা ব্যয়ের তুলনায় এই অর্থ যথেষ্ট নয়।
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এবার ইনসেনটিভ (Insentive) হিসাবে প্রত্যেক বিএলওকে (BLO) মোট ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। তার মধ্যে এক হাজার টাকা রাখা হয়েছে মোবাইল ও ডেটা খরচের জন্য। বাকি পাঁচ হাজার টাকা অন্যান্য খরচ বাবদ। সূত্রের দাবি, বিহারেও একই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গেও সেই মডেলেই অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে রাজ্য অর্থ দফতরের কাছে।
আগেও বছরে নির্দিষ্ট সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করতেন বিএলওরা। সাধারণত অক্টোবরের পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা সেই কাজের জন্য তাঁদের ৫০০ টাকা দেওয়া হত। এবারে এসআইআরের গুরুত্ব বাড়ায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার টাকা, যার মধ্যেই ধরা হয়েছে মোবাইল খরচের অংশ।
তবে বিএলওদের একাংশের প্রশ্ন, নিজস্ব ডিভাইস ও ডেটার উপরে নির্ভর করেই কাজ চালাতে হবে কেন? ডিজিটাল পদ্ধতিতে উন্নত ব্যবস্থাই যখন লক্ষ্য, তখন উপযুক্ত অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সহায়তাও কি দেওয়া উচিত নয়?
প্রসঙ্গত, রাজ্যজুড়ে মোট ৮০ হাজার ৬৮১ জন বিএলও (BLO) মাঠে নেমেছেন। সঙ্গে রয়েছেন অতিরিক্ত ১৪ হাজার কর্মী। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে ভোটারদের হাতে পৌঁছবে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি এনুমারেশন ফর্ম - যার দ্বিগুণ সংখ্যায় ফর্ম ছাপানো হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিটি বাড়িতে অন্তত একাধিকবার যাবেন বিএলও। হাতে থাকবে এনুমারেশন ফর্ম, যা পূরণ করাতে হবে ভোটারদের। কেউ বাড়িতে না থাকলে চিন্তার কারণ নেই। প্রয়োজনে তিন-চারবার পর্যন্ত বাড়িতে আসবেন তাঁরা।