ফর্ম বিলি না হলেও ব্যারাকপুরের মহকুমা শাসক ১০০ শতাংশ ফর্ম বিলি হয়েছে বলে দেখানোর নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করলেন বিএলওরা। বিএলওদের অধিকাংশই স্কুল শিক্ষিকা। তাঁদের বক্তব্য, তিনবার বাড়ি গিয়েও অনেককে পাওয়া যায়নি।

শেষ আপডেট: 14 November 2025 20:02
প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: ব্যারাকপুর লোকসভায় এসআইআর-এর কাজ শুরুর পর থেকে তথ্য সংগ্রহে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন বুথ লেভেল অফিসাররা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি, তথ্য যাচাই—সব মিলিয়ে কাজের চাপ তুঙ্গে।
এরইমধ্যে ফর্ম বিলি না হলেও ব্যারাকপুরের মহকুমা শাসক ১০০ শতাংশ ফর্ম বিলি হয়েছে বলে দেখানোর নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করলেন বিএলওরা। বিএলওদের অধিকাংশই স্কুল শিক্ষিকা। তাঁদের বক্তব্য, তিনবার বাড়ি গিয়েও অনেককে পাওয়া যায়নি। তাঁরা কী করবেন? মিথ্যে রিপোর্ট দেওয়া যাবে না। অর্চনা বিশ্বাস নামে একজন বিএলও বলেন, "এসডিও সাহেব কোনও কথাই শুনতে চাইছেন না। ব্যারাকপুর লাটবাগানে পুলিশ কোয়ার্টার্সে কেউ তিন বছর কেউ চার বছর থেকে চলে গিয়েছেন। কোনওভাবেই তাঁদের খোঁজ পাচ্ছি না। বারবার বাড়ি গিয়েও লাভ হয়নি। উনি বলছেন, বাড়িতে ফর্ম দিয়ে আসতে। কার হাতে দেব ফর্ম? ১০০ শতাংশ না দেখালে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।" আরেকজন বিএলও বলেন, "আমরা স্কুলে পড়াই। শিক্ষিকা। মিথ্য়াচার করতে পারব না। সই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতেই এনুমারেশন ফর্ম দেব। তাঁকে না পেলে কোথায় ফর্ম রেখে আসব?"
অন্যদিকে ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। চিত্তরঞ্জন সাহা নামে একজন বিএলও বলেন, নির্বাচন কমিশনের সমস্ত কাজ করব, কিন্তু ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে পারব না। ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারছি না। আমাদের শরীর ভেঙে আসছে।" তাঁদের বক্তব্য, অনিয়ন্ত্রিত চাপ চলতে থাকলে তাঁরা এসআইআর-এর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবেন।
মহকুমাশাসক সৌরভ চ্যাটার্জি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের দফতরে প্রয়োজনীয় বার্তা পাঠানো হবে। কর্মীরা যাতে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে না পড়েন, সেদিকেও দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে কিছু বলতে চাননি। ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকায় ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু ফর্মের ঘাটতি, টার্গেটের চাপ এবং নানা নির্দেশে বিভ্রান্ত হচ্ছেন কর্মীরা।