অভিযোগ, দিনে ১২–১৫ ঘণ্টা কাজ করেও দৈনিক আয় ৫০০–৬০০ টাকার কম। তাঁরাই বহন করছেন বাইক কিস্তি, জ্বালানি, চিকিৎসা ও দুর্ঘটনা খরচ।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 2 January 2026 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের প্রথম দিনেই পথে নামলেন ব্লিঙ্কিটের গিগ কর্মীরা (Blinkit workers)। পারিশ্রমিক বকেয়া, কাজের সময়সীমা এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ একাধিক দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে ধর্মঘটে (strike , low wages) শামিল হয়েছেন টালিগঞ্জের নেতাজিনগর থানা এলাকার খানপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে কর্মরত সংস্থার প্রায় ৬০ জন সরবরাহ কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, গত দু’মাস ধরে সমস্যার কথা জানানো সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দেননি।
ধর্মঘটী কর্মীদের পক্ষ থেকে বিশ্বজিৎ নস্কর বলেন, “আমাদের প্রধান দাবি পারিশ্রমিক বৃদ্ধি। পে–আউট সংক্রান্ত সমস্যার কথা বারবার জানালেও ম্যানেজমেন্ট কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই ধর্মঘট।”
গিগ কর্মীদের দাবি, দু’কিলোমিটার পর্যন্ত পণ্য সরবরাহের জন্য অর্ডার পিছু মাত্র ১৫–১৬ টাকা দেওয়া হয়। বর্ষবরণের আগে বিপুল অর্ডার পেলেও বাড়েনি প্রাপ্য। অভিযোগ, দিনে ১২–১৫ ঘণ্টা কাজ করেও দৈনিক আয় ৫০০–৬০০ টাকার কম। তাঁরাই বহন করছেন বাইক কিস্তি, জ্বালানি, চিকিৎসা ও দুর্ঘটনা খরচ। রাতের ডেলিভারির ক্ষেত্রেও সংস্থার তরফে নিরাপত্তার আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি বলে অভিযোগ।
ধর্মঘট চলাকালীন গিগ কর্মীরা সিটু অনুমোদিত ওয়েস্ট বেঙ্গল গিগ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতৃত্বে নেতাজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। দীর্ঘ আলোচনার পর অভিযোগপত্রটি ‘কনটেন্টস নট ভেরিফায়েড’ সিলমোহর দিয়ে গ্রহণ করে পুলিশ।
অভিযোগপত্রে উল্লিখিত পাঁচ দফা দাবি হল, পারিশ্রমিক বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, দৈনিক ইনসেনটিভ বাড়ানো, কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। প্রশাসনের আশ্বাস, দ্রুত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, মজুরি ও সুরক্ষা-সহ বিভিন্ন দাবিতে ২৫ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন গিগ কর্মীরা। যদিও সংস্থার দাবি, সে দিনও দেশভর ৭৫ লক্ষের বেশি ডেলিভারি হয়েছে। তবে খানপুরের ধর্মঘটী ইউনিয়নের স্পষ্ট বার্তা, “দু’দিনের আন্দোলন নয়, দাবিপূরণ না-হলে লড়াই চলবে।”