বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক দিন ধরেই দাবি করে আসছেন যে, এসআইআর-এর কারণেই রাজ্যজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরপর আত্মহত্যা ও মৃত্যুর ঘটনাগুলি ঘটেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 21 November 2025 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সকালে কেঁপে (Earthquake) উঠেছিল কলকাতা (Kolkata) ও সংলগ্ন অঞ্চল। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশ (Bangladesh)। কিন্তু রাজ্য বিজেপি (BJP) মনে করছে, এই কম্পন বাংলাদেশের জন্য হয়নি! বিষয়টি নিয়ে তারা কটাক্ষ করেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)।
ভূমিকম্প থামার কয়েক মিনিটের মধ্যে বাংলার রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। কারণ এই কম্পন এসআইআর-এর (SIR) জন্য হয়েছে কিনা, সেটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে জানতে চেয়েছে তারা! একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছে — এই কম্পনও কি SIR-এর কারণে হয়েছে?
এর অবশ্য পাল্টা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। তারা বিজেপিকে নিশানা করে লিখেছে - আসলে বিজেপির পায়ের তলার মাটি কেঁপে গেছে। তাই এই কম্পন। বুঝে গেছে যে, ২০২৬-এ তারা বড় ব্যবধানে হারতে চলেছে। তবে চিন্তা নেই, দিল্লির জমিদাররাও এই কম্পনের অনুভূতি পাবে।

বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কয়েক দিন ধরেই দাবি করে আসছেন যে, এসআইআর-এর কারণেই রাজ্যজুড়ে (SIR in West Bengal) বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরপর আত্মহত্যা ও মৃত্যুর ঘটনাগুলি ঘটেছে। বৃহস্পতিবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনার (ECI) জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) একটি চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেন, অবিলম্বে রাজ্যে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়া থামানো হোক। তাঁর অভিযোগ, এই বিশেষ পুনর্বিবেচনা কার্যক্রমটি অসংগঠিত, জোরপূর্বক ও বিপজ্জনক উপায়ে চাপানো হয়েছে রাজ্যবাসীর ওপর। তাই এবার এই ভূমিকম্পের ঘটনা নিয়েও রাজনৈতিক তরজা।
তৃণমূল-বিজেপি দ্বন্দ্ব (TMC BJP Clash) যে প্রতিদিন আরও উত্তপ্ত হচ্ছে, এ দিনের মন্তব্যে তা ফের স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কোনও ন্যূনতম প্রস্তুতি ছাড়া সরকারি কর্মীদের ওপর এই দায় চাপানো হয়েছে। প্রশিক্ষণের ঘাটতি, কোন কোন নথি বাধ্যতামূলক তা নিয়ে বিভ্রান্তি, এবং কর্মজীবী মানুষের কাছে সময়মতো পৌঁছতে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) চরম অসুবিধা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বহু বিএলও তাঁদের দৈনন্দিন জীবিকা-নির্ভর সূচি থেকে বেরিয়ে ভোটারদের খুঁজে বের করার প্রায় অসম্ভব চাপে কাজ করছেন।
বিজেপি (BJP) অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ নস্যাৎ করেছে। তাদের বক্তব্য, শাসক দল এসআইআর থামানোর জন্য ইচ্ছাকৃত নাটক করছে, কারণ ভোটব্যাঙ্ক বজায় রাখতে তাদের ‘অবৈধ ভোটার তালিকা’ টিকিয়ে রাখা দরকার। বিজেপির মন্তব্য, আইনানুগ বিশেষ পুনর্বিবেচনার পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) পাল্টা অভিযোগ, এসআইআর-আতঙ্কে ইতিমধ্যেই অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন বুথ লেভেল অফিসারও, যাঁদের ‘অসহনীয় কাজের চাপ’ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে দাবি শাসক দলের।
সব মিলিয়ে ভূমিকম্পের মতোই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এখন অস্বস্তির কম্পনে টালমাটাল। এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির এই ত্রিমুখী টানাপোড়েন আদৌ কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনায় রাজনৈতিক মহল।