দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ প্রায় দু’বছর পর আগামীকাল রবিবার বিজেপির (BJP) জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক বসতে চলেছে। কোভিড পরিস্থিতির জন্য অভিনব উপায়ে হতে চলেছে এই বৈঠক। দিল্লিতে বসবেন নরেন্দ্র মোদী, জেপি নাড্ডা, অমিত শাহ-সহ দলের কেন্দ্রীয় নেতত্ব। অন্যদিকে, প্রতিটি রাজ্যের রাজধানীতেও থাকবে বৈঠকের আয়োজন। সেখান থেকে রাজ্য নেতৃত্ব ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক দলের বৈঠক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে হাইব্রিড পদ্ধতি হতে যাচ্ছে।
বৈঠকের আলোচ্য স্থির করতে আজ শনিবার দিল্লিতে দলের সর্ব-ভারতীয় সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন সভাপতি জেপি নাড্ডা। ওই বৈঠকে যোগ দিতে রাজ্য বিজেপির সদ্য প্রাক্তন সভাপতি, বর্তমানে সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ সকালের বিমানে দিল্লি গিয়েছেন।
সূত্রের খবর, আগামীকালের বৈঠকে সদ্য অনুষ্ঠিত তিন লোকসভা এবং ৩০ বিধানসভা আসনের ফলাফল এবং পাঁচ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা ভোট নিয়ে কথা হবে। সেই সঙ্গে এক গুচ্ছ প্রস্তাব আনতে চলেছে দল। তারমধ্যে অন্যতম হল একশো কোটি ভারতবাসীকে করোনা টিকা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা। এছাড়া, পেট্রল-ডিজেলে উৎপাদন শুল্ক ছাড় এবং সদ্য সফল বিদেশ সফরের জন্যও মোদীর প্রশংসা করে প্রস্তাব পাশ করাতে চলেছে বিজেপি। এছাড়া আফগানিস্তানে তালিবান রাজ পরবর্তী আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রস্তাব গ্রহণ করবে বিজেপি।
করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০১৯-এর পর বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়নি। বর্তমান সভাপতি নাড্ডা গত মাসে জাতীয় কর্মসমিতি পুনর্গঠন করেছেন। তাতে স্থায়ী সদস্য আছেন ৮০জন। এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রিত ৫০জন এবং স্থায়ী আমন্ত্রিতের তালিকায় আছেন আরও ১৭৯জন। নাড্ডার ভাষণ দিয়ে বৈঠকের সূচনা হবে। সমাপ্তি ভাষণ দেবেন মোদী।
সদ্য অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনের ফল বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। সামনেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যে উত্তরপ্রদেশের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর রাজ্য রয়েছে। এছাড়া ভোট আসন্ন বিজেপি শাসিত আরও তিন রাজ্য উত্তরাখণ্ড, মণিপুর, গোয়া এবং কংগ্রেস শাসিত পাঞ্জাবে। আগামী বছরই মাঝামাঝি নাগাদ ভোট হওয়ার কথা মোদী-অমিত শাহের রাজ্য গুজরাট এবং নাড্ডার রাজ্য হিমাচল প্রদেশে। মোদী কাল কী বলেন সেদিকে চেয়ে বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও উপনির্বাচনের ফলে স্পষ্ট মোদী ম্যাজিক আর আগের মতো কাজ করছে না।