সূত্রের দাবি, সুব্রতের বাবার নাম বাংলাদেশে (Bangladesh) ছিল সুভাষ মণ্ডল। কিন্তু ভারতের ভোটার কার্ডে প্রথমে তা ছিল ফণী মণ্ডল। পরে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে সেই নাম বদলানো হয়। কীভাবে এই ভুল হয়েছিল, সেই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি সুব্রত।
.jpg.webp)
বিজেপি কর্মীর দাবি ঘিরে বিতর্ক
শেষ আপডেট: 30 July 2025 08:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে এনআরসি, সিএএ ও ‘অনুপ্রবেশ’ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের এক বিজেপি কর্মী (BJP Worker)। তাঁর দাবি, ছোটবেলায় হেঁটে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন তিনি। এখন ভোটার কার্ড, আধার-সহ সব ভারতীয় নথিই রয়েছে তাঁর নামে। বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) বারাসত ১ নম্বর ব্লকের কদম্বগাছি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা সুব্রত মণ্ডল। তিনি এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসেবেই পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলায়। ২০০০ সালে ভারতে এসে মামাবাড়িতে ওঠেন সুব্রত, পরে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। ২০১১ সালে কদম্বগাছিতেই নিজের বাড়ি তৈরি করেন তিনি।
সূত্রের দাবি, সুব্রতের বাবার নাম বাংলাদেশে (Bangladesh) ছিল সুভাষ মণ্ডল। কিন্তু ভারতের ভোটার কার্ডে প্রথমে তা ছিল ফণী মণ্ডল। পরে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে সেই নাম বদলানো হয়। কীভাবে এই ভুল হয়েছিল, সেই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি সুব্রত। এতে আরও বাড়ছে সন্দেহ। তাঁর বিরুদ্ধে জাল নথি তৈরির অভিযোগও উঠেছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সুব্রত। তাঁর কথায়, 'আমি তখন ছোট ছিলাম, ২০০০ সালে বাংলাদেশ থেকে পায়ে হেঁটে এদেশে এসেছি। এখানে পড়াশোনা করেছি, সব নথি নিয়ম মেনেই বানানো। আমি বিজেপি করি বলেই রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশে আমরা অত্যাচারের শিকার হয়েছিলাম, তাই আর ফিরে যেতে চাই না।'
বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির রাজ্য নেতা তাপস মিত্র বলেন, “তিনি সত্যিই বিজেপি করেন কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। তবে যদি ২০০০ সালে এসে থাকেন, তাহলে সিএএ-তে আবেদন করতে পারেন।'
অন্যদিকে, তৃণমূলের (TMC) স্থানীয় জেলা পরিষদের সদস্য আরশাদ উদ জামান বলেন, 'কে কোন দল করে, সেটা মুখ্য বিষয় নয়। কোনও পরিবার যদি অত্যাচারের কারণে এদেশে এসে পড়ে এবং সেই ছেলে যদি এখানে পড়াশোনা করে কাজ করছে, তাহলে তার নাম বাদ পড়বে না। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীও তা বারবার বলেছেন।'
ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছে জেলা পুলিশও। বারাসতের পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খরিয়া জানান, 'স্থানীয় থানাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। কীভাবে নথি তৈরি হয়েছে, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।'