বুধবার সকালে বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি। শ্রীধাম বাসস্ট্যান্ড থেকে গঙ্গাসাগর বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি জায়গায় বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 March 2026 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে ভোটের হাওয়া বইছে, এর মধ্যেই অশান্ত হল গঙ্গাসাগর (Gangasagar)। বুধবার সকাল আটটার দিকে আচমকাই গুলি চালানো হয় বিজেপির (Bharatiya Janata Party) এক কর্মীর ওপর। শ্রীধাম বাসস্ট্যান্ড থেকে গঙ্গাসাগর বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি জায়গায় বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায় (Gangasagar shootout)।
আক্রান্ত বিজেপির কর্মীর নাম ত্রিলোকেশ ঢালি (Trilokesh Dhali)। গুলিবিদ্ধ (BJP worker shot) হয়ে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় মানুষরাই দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। সকাল সকাল এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে, কে বা কারা এই হামলার পিছনে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ত্রিলোকেশ ঢালি আগে মথুরাপুর সংগঠন জেলা কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন, যদিও বর্তমানে সাধারণ কর্মী হিসেবেই দল করছিলেন।
ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা (West Bengal political violence)। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পুরনো কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই হামলা হতে পারে। কিন্তু বিজেপির অভিযোগ, এই হামলার পিছনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের হাত আছে।
বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “ওই কর্মীর প্রাণ বাঁচবে কি না বলতে পারছি না। বাংলায় হিংসার রাজনীতি কে শুরু করল? আমরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) কাছে অভিযোগ করব। ওই থানার ওসিকে বরখাস্ত করার দাবি জানাব। কঠোর ব্যবস্থা নিলে তবেই এই ঘটনা বন্ধ হবে।”
অন্যদিকে আক্রান্তের মেয়েও অভিযোগ তুলেছেন সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, “বাবাকে বুকে গুলি করা হয়েছে। আমরা বিজেপি করি, আমি নিজেই পঞ্চায়েত মেম্বার, এই কারণেই হামলা হতে পারে।”
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দলের নেতারা। তৃণমূলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ অবশ্য দাবি করেছেন, “নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। ভোটের আগে সব ঘটনার দায় তৃণমূলের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে।”
হামলার প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় অবরোধে বসেছেন। গঙ্গাসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা তুঙ্গে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
গত সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় গুলি চলার অভিযোগ ওঠে। সেইসময় রাজ্য সফরে ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল (EC Full Bench In West Bengal)।
বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বাংলায় এসেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তিনি। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল - নির্বাচনের আগে কোনও ভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি মেনে নেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকেও একই কথা আরও একবার বলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC Gyanesh Kumar)। সফর শেষ করে গতকালই দিল্লি ফিরেছেন তিনি। তারপর ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই এই গুলি চালানোর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।