দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেসের দেশ শাসনের রেকর্ড চূর্ণ করে বিজেপি-ই নতুন রেকর্ড গড়বে বলে দাবি করলেন গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতা রাম মাধব। শুক্রবার ত্রিপুরায় বিজয় সমাবেশে গিয়ে বিজেপি-র অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বলেন, “২০৪৭ সালে দেশ যখন স্বাধীনতার শতবর্ষ পালন করবে, তখনও দেশের ক্ষমতায় থাকবে বিজেপি।”
ত্রিপুরায় রাজ্য সরকার গত বছরেই দখল করেছে বিজেপি। এ বার লোকসভার দুটি আসনেও সিপিএম, কংগ্রেসকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন বিপ্লব দেবরা। রাজধানী আগরতলার বিজয় সমাবেশে সঙ্ঘ পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই বিজেপি নেতা বলেন, “কংগ্রেস দেশ শাসনের যে রেকর্ড গড়েছিল, তা ভেঙে দেবে ভারতীয় জনতা পার্টি।” তাঁর কথায়, “মোদীজির নেতৃত্বে ২০২২ সালের মধ্যে আমরা নতুন ভারত গড়ে তুলব। কোনও বেকারত্ব থাকবে না। আর স্বাধীনতার শতবর্ষে বিশ্ব গুরু হিসেবে মাথা তুলবে ভারত।”
নরেন্দ্র মোদীর শক্তি বোঝাতে গিয়ে বিজেপি-র ত্রিপুরা জয়ের অন্যতম কারিগর রাম মাধব বলেছেন, “মোদীজির বিজেপি-ই দেশের বর্তমান। ভবিষ্যৎও তাই।” পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতেই,শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদের ইস্যু দিয়েই উনিশের লোকসভায় এই বিপুল জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির। ত্রিপুরার সমাবেশে রাম মাধবও সেই জাতীয়বাদের সুরকেই আরও চড়িয়ে বলেন, “বিজেপি-র ডিএনএ-তে জাতীয়তাবাদ রয়েছে। জাতীয়তাবাদ মানে বিজেপি, বিজেপি মানে জাতীয়তাবাদ।”
উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে আসন কমতে পারে আন্দাজ করেই বিজেপি প্রায় বছর দুয়েক আগে থেকেই নজর দিয়েছিল পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে। স্লোগান দিয়েছিল, ‘পুবে তাকাও।’ ফলও মিলেছে হাতেনাতে। বাংলা, ত্রিপুরা, অসমের মতো রাজ্যে ঢেলে ভোট পেয়েছে বিজেপি। উচ্ছ্বসিত রাম মাধব আরও বলেন, “যে শক্তি বিজেপি সঞ্চয় করেছে, তা কমানোর সাধ্য কারও নেই।”
রাম মাধবের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সর্বভারতীয় কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, “জাতীয়বাদ মানে বিজেপি আর বিজেপি মানেই জাতীয়তাবাদ, এই কথা যাঁরা বলছেন তাঁরা ভারতের বহুত্ববাদী ধারণাকে মানেন না। জিতেছেন বলে যা ইচ্ছে বলা যায় না। মুখে লাগাম টানা উচিত বিজেপি নেতাদের।”