শাহের উদ্দেশে অভিষেকের সরাসরি চ্যালেঞ্জ, “৩০ দিন নয়, ১৫ দিন সময় নিন। তৃণমূল সমর্থন করবে বিল। কিন্তু শর্ত একটাই—যদি অপরাধ প্রমাণ না হয়, তাহলে যিনি আটক করেছেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিককেও দ্বিগুণ সময় জেলে থাকতে হবে!”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 20 August 2025 17:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ( Amit Shah) বুধবার লোকসভায় যে ১৩০ তম সংবিধান সংশোধন বিল পেশ করেছেন তা নিয়ে এদিন দিনভর উত্তপ্ত থেকে লোকসভা। দিনের শেষে বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এ প্রসঙ্গে শাহকে উদ্দেশ্য করে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
শাহের উদ্দেশে অভিষেকের সরাসরি চ্যালেঞ্জ, “৩০ দিন নয়, ১৫ দিন সময় নিন। তৃণমূল সমর্থন করবে বিল। কিন্তু শর্ত একটাই—যদি অপরাধ প্রমাণ না হয়, তাহলে যিনি আটক করেছেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিককেও দ্বিগুণ সময় জেলে থাকতে হবে!”
শাহের ‘৫৬ ইঞ্চির ছাতি’ প্রসঙ্গ টেনে অভিষেকের কটাক্ষ, “দম থাকলে চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করুন। কিন্তু আপনারা তো গণতন্ত্রকেই ভয় পাচ্ছেন। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই বিল।”
বিলের মূল প্রস্তাব—কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীকে যদি এক মাসের বেশি আটক রাখা হয়, তাহলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। এই নিয়েই তীব্র বিতর্ক। কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা স্পষ্ট বলেছে, “এই বিল আসলে বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের গদিচ্যুত করার হাতিয়ার।”
লোকসভায় বিলের কপি ছিঁড়ে শাহের দিকে ছুড়ে দেন বিরোধীরা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ ঘিরে উঠেছে প্রবল প্রশ্ন। সেই সংঘর্ষের আঁচ গড়িয়ে এল সাংবাদিক বৈঠকেও।
এদিন অভিষেকের বক্তব্যেও বারবার উঠে এসেছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত। অভিষেকের কটাক্ষ, “৩০৩ থেকে ২৪০-তে নেমে এসেছে বিজেপি। ক্ষমতা হারানোর ভয়েই আজ এমন বিল আনা হচ্ছে। জনগণের সমস্যা নিয়ে এদের কোনও মাথাব্যথা নেই। জিনিসপত্রের দাম আগুন, কৃষক পাচ্ছেন না ফসলের দাম, সীমান্ত সুরক্ষা, বেকারত্ব— কোথাও সরকার কার্যকর নয়।”
অভিষেকের বক্তব্য, এই বিলের আসল উদ্দেশ্য দুর্নীতির মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীদের গদিচ্যুত করা। এ প্রসঙ্গে কেজরওয়াল, মণীশ শিসোদিয়া থেকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের মিথ্যে মামলায় জেলে আটকে রাখার নজিরও টেনে আনেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, “ইডি ৫৮৯২টি কেসে তদন্ত করেছে, মাত্র ৮টির নিষ্পত্তি। ০.৩ শতাংশ সফলতা। তাহলে উদ্দেশ্য কী? দুর্নীতি রোখা, না বিরোধীদের ধ্বংস করা?”
নিজের দাবির সপক্ষে পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, “বিজেপির ২৮ জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে।এর মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ। তাও তো তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেই। শুভেন্দু অধিকারী কিংবা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধেও কোনও পদক্ষেপ নেই। আমাদের জন্য এক আইন আর বিজেপির জন্য অন্য আইন? তাহলে কি এই বিল শুধু বিরোধীদের জন্য?”
বিজেপিকে তুলোধোনা করে তাঁর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেত্রী থাকাকালীনও টালির চালে থাকতেন আজও সেখানে থাকতেন। আমরা তার কাছ থেকে নৈতিকতার পাঠ শিখব নাকি ৫০০ কোটির পার্টি অফিস করে যারা, সেই বিজেপি আমাদেরকে নৈতিকতার পাঠ দেবে?”
এখন দেখার অভিষেকের কড়া প্রতিক্রিয়া বা চ্যালেঞ্জের জবাবে পদ্মশিবির কী উত্তর দেয়।