
শেষ আপডেট: 15 February 2024 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি অভিনেতা দেব ওরফে ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারিকে দিল্লিতে দেখা করতে বলেছে ইডি। সমস্ত নথি নিয়ে অভিনেতাকে ইডি অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এব্যাপারে সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগে সরব হল তৃণমূল। তৃণমূল ভবনে দলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "দেব মাথা নীচু করেননি। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলে রয়েছেন। তারপরেই ইডির এই নোটিস প্রমাণ করে দেয় বিজেপি এজেন্সিকে শাসানোর কাজে ব্যবহার করছে। যাঁরা মাথা নত করছেন না তাঁদের ঘরে ইডি, সিবিআইকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এটা বিজেপির পলিসি।"
দেব ফের লোকসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হবেন কি না তা নিয়ে জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। দেবের মন্তব্যেই জোরদার হয়েছিল এই জল্পনা। কয়েক দিনের ডামাডোল পর্ব মোটের উপর মেটে শনিবার বিকেলে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টা বৈঠক করেন দেব। সেখান থেকে বেরিয়ে সোজা যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব বলেছিলেন, তিনি রাজনীতিকে ছাড়লেও রাজনীতি তাঁকে ছাড়বে না।
সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেবকে নিয়েই হেলিকপ্টারে পাণ্ডুয়া যান। সেখানে প্রকাশ্য মঞ্চেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, দেবের কথা মেনেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরি করছেন।
এদিকে তৃণমূলের টিকিটে ফের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী হতে তিনি রাজি, দেবের তরফে এমন ইঙ্গিত মিলতেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল রবিবার। ওইদিন সন্ধ্যায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে সন্দেশখালির প্রতিবাদীদের সমর্থনে মিছিল শেষে সাংবাদিকরা দেবকে নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ইডি আর সিবিআই অফিসের বিষয়টা কিন্তু মিটে যায়নি।’
এদিন ওই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে কুণাল বলেন, "দেব সম্পর্কে কদিন আগে তথাকথিত বিরোধী দলনেতার কী উচ্ছ্বাস, নানা বিবৃতি। তারপর দেব যখন জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল পরিবারের সঙ্গেই তিনি রয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরামবাগ সফরে গেলেন, পরিষ্কার হয়ে গেল, দেব আবার ভোটে লড়বেন। সঙ্গে সঙ্গে ইডির নোটিস। তৃণমূল এই ঘটনার শুধু নিন্দা করছে না, এটাই বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতি।"
কুণাল বলেন, এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর বাবাকে, মাকে, স্ত্রীকে এমনকী আইনজীবী ও সচিবকে টার্গেট করেছে বিজেপি। নোটিসে নোটিসে জেরবার করে দেওয়া হচ্ছে। দলের অ্ন্যান্য নেতাদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। ভোটের মুখে এজেন্সি দিয়ে হুমকিবাজির রাজনীতি করা হচ্ছে।