শমীককে কুণালের কটাক্ষ , "আসলে লোক নেই, তাই 'মুখে মারিতং জগত'! নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা!"
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 2 December 2025 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর ইস্যুতে (SIR) বাংলায় উত্তাপ কমার তো নয়ই, বরং দিন দিন বাড়ছে রাজনৈতিক তাপমাত্রা। মৃত বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটার নিয়ে (Ghost Voter issue) তৃণমূল–বিজেপি তরজায় (BJP, Trinamool) নয়া তির ছুড়লেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর মন্তব্য—‘দুয়ারে সরকার, কবরে ভোটার’। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই ফের চড়ছে রাজনীতির পারদ।
সম্প্রতি পা ভেঙেছে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)। পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। সেখান থেকেই এক ভিডিও বার্তায় কুণালের কটাক্ষ, “শমীক বাংলা শব্দের খেলায় ভালই পারদর্শী। কিন্তু ওনার স্লোগানটা ভুল—এটা ‘দুয়ারে সরকার, কবরে ভোটার’ নয়, সঙ্গে যোগ হবে ‘মঙ্গলগ্রহে বিজেপি’!”
এখানেই না থেমে কুণালের তির্যক মন্তব্য, “এতদিন বলছিলেন, এসআইআর হলে নাকি সওয়া কোটি ভোটার বাদ যাবে। এখন দেখছেন, নিজেদের কথার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তাই এখন ভরসা ভূতুড়ে ভোটারের গল্প। ভোটের দিন ভোটাররা নাকি কবর থেকে উঠে আসবেন! সে জন্যই বলছি—যাঁরা প্রিসাইডিং অফিসার থাকবেন, ভূতের ভয় থাকলে সঙ্গে ওঝা নিয়ে আসবেন!”
তৃণমূল মুখপাত্র শুধু ব্যঙ্গেই থামেননি। সরাসরি বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, “বিএলওদের কাজ নিয়ে এত অভিযোগ! কিন্তু আপনারা তো বুথে বিএলএ-টু রাখেন। তাঁরা আপত্তি তুললেন না কেন? কমিশনে অভিযোগ করলেন না কেন? অন্তত স্পট থেকে লাইভ করলেন না কেন? কারণ সহজ—লোক নেই, সংগঠন নেই। তাই নাটক করে মৃত ভোটারের গল্প শোনানো হচ্ছে।”
বিরোধীদের অভিযোগ, মৃত ভোটারকে তালিকায় রেখে ‘ম্যানেজমেন্ট’ চলছে। কিন্তু ৯০ শতাংশ ডিজিটাইজেশনের পরে সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবের বিস্তর তফাৎ ধরা পড়েছে—এই পরিসংখ্যানের জোরেই সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেছিলেন শমীক। বলেছিলেন, "ঠান্ডা ঘরে না বসে থেকে গ্রাউন্ড জিরোয় আসুন।" বিজেপির অভিযোগ, এসআইআর মানছে না তৃণমূল, চাপ দেওয়া হচ্ছে বিএলওদের ওপর।
অন্যদিকে কমিশনের হিসেব বলছে, এ রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজারের বেশি বুথে ফর্ম বিলি (Form) ও ডিজিটাইজ পর্ব চলাকালীন দেখা যাচ্ছে রাজ্যের প্রায় ২,২০৮ টি বুথের (Booths) থেকে কোনও ফর্ম ফেরত আসেনি। অর্থাৎ এইসব বুথে বিলি করা ও ডিজিটাইজ করা ফর্মের সংখ্যা একই। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ১৩ জন বিশেষ পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে দিল্লি।
তবে কমিশনের এই তৎপরতায় বিশেষ আগ্রহ দেখাতে নারাজ শাসকদল। সোমবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “এসআইআর হলেও তৃণমূলের আসন ও ভোট শতাংশ বাড়বে।”
আর এদিন এ প্রসঙ্গে শমীককে কুণালের কটাক্ষ , "আসলে লোক নেই, তাই 'মুখে মারিতং জগত'! নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা!"