FDI-এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “গুজরাতে এফডিআই ৩৯.৬ শতাংশ, আর বাংলায় মাত্র ০.৬! এই ব্যবধান আমাদের মুছতেই হবে।”

শমীক ভট্টাচার্য।
শেষ আপডেট: 17 September 2025 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Pm Modi) ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে শুরু হয়েছে এক বিশেষ প্রদর্শনী। প্রধানমন্ত্রী মোদীর জীবন ও কর্মকে ঘিরে এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ওই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই ফের বাংলায় পালা বদলের ডাক দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (BJP state president Shamik Bhattachary)।
শমীকের কথায়, "অপেক্ষা করুন, আর মাত্র ৯ মাস, নতুন সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে! বাংলাকে আর বাংলাদেশ হতে দেবেন না!"
এদিনের অনুষ্ঠানে বাংলার শিল্পভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে মোদীর বিকাশ-দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে শমীক বলেন, “যাঁরা একদিন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বলতেন নরখাদক, আজ তাঁরাই মোদীজিকে দেখছেন বিকাশ পুরুষ হিসেবে। উনি নিজের কাজের মাধ্যমে উন্নয়নের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন।”
FDI-এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “গুজরাতে এফডিআই ৩৯.৬ শতাংশ, আর বাংলায় মাত্র ০.৬! এর থেকেই স্পষ্ট, আমরা কত পিছিয়ে। এই ব্যবধান আমাদের মুছতেই হবে।”
বাংলায় শিল্পের অনুকুল পরিবেশ গড়ে না ওঠার জন্য রাজ্য সরকারের সদিচ্ছাকে দায়ী করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। শমীকের স্পষ্ট কথা, “কৃষি-শিল্পের সহাবস্থান নয়, শিল্পে কৃষকেরও অংশীদারিত্ব চাই। জমি দিলে, সেই শিল্পে কৃষকের ভাগ চাই।”
তিনি দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যে “নতুন কলকাতাকে দেখতে চান মানুষ” — সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে। নতুন বিনিয়োগ আনতে হবে, কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। আর সেজন্য বাংলায় শিল্পের অনুকুল পরিবেশ তৈরিও অত্যন্ত জরুরি।
শমীক ভট্টাচার্য আরও দাবি করেন, অশোকনগর ও রানাঘাটে তেলের খনি রয়েছে, পুরুলিয়ায় আছে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ, অথচ রাজ্য সরকার এসব নিয়ে কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাঁর কথায়, "তেল-গ্যাসের উপর আমরা বসে আছি, কিন্তু রাজ্যের সরকার চুপ!"
বিজেপির রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, “রানাঘাটে তেলের খনি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর তিনবার চিঠি দিয়েছে রাজ্যকে, কিন্তু কোনও সহযোগিতা নেই।”
শুধু তেল নয়, তিনি আরও বলেন, “পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তে রয়েছে বিপুল ম্যাঙ্গানিজের ভাণ্ডার, তাতেও কোনও পদক্ষেপ নেই।” আক্ষেপের সুরে শমীক এও বলেন, "আমাদের এখানে সমুদ্র, নদী, মেধা— যা চাই সবই আছে, শুধু সদিচ্ছা নেই। সেই সদিচ্ছা নিয়েই আমরা এগোতে চাই।”
শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যেকে কেন্দ্র করে নতুন করে চড়ছে রাজ্য-রাজনীতির উত্তাপ। জবাবে শাসক শিবির কী বলে, তা নিয়ে কৌতূহল সব মহলে।