এখনও পর্যন্ত মোট ৬৫টি এমন চার্জশিট প্রকাশিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে পদ্ম শিবিরের (West Bengal BJP)।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 8 February 2026 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা— একাধিক প্রশ্ন তুলে ৩০টি বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে ‘চার্জশিট’ (BJP Charge sheet) প্রকাশ করল বিজেপি (BJP News)। দলীয় সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত মোট ৬৫টি এমন চার্জশিট প্রকাশিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে পদ্ম শিবিরের (West Bengal BJP)।
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলির সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেই এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। কোথাও স্থানীয় দুর্নীতি, কোথাও প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কোথাও আবার জনস্বার্থ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। একসঙ্গে একাধিক কেন্দ্রে এই চার্জশিট প্রকাশ করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করাই বিজেপির কৌশল।
চার্জশিটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের। বিজেপির অভিযোগ, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) মতো জেলায় রাজনৈতিক হিংসা, ভোটের সময় বুথ দখল, বিরোধী কর্মীদের ভয় দেখানো নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বেআইনি বালি খাদান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশ নিয়েও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আবাস প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (পিএমএওয়াই) বাস্তবায়নে অনিয়ম ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছতে দেরি হওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে চার্জশিটে। বিজেপির দাবি, শহরাঞ্চলের বহু দরিদ্র মানুষ এখনও বাড়ির টাকা পাননি। তাদের মতে, “আবাস ও আর্থিক সহায়তার মতো প্রকল্পে স্বচ্ছতাই জনবিশ্বাসের মূল চাবিকাঠি।”
যদিও তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হয়েছেন এবং বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কর্মসংস্থান দুর্নীতিও চার্জশিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও স্কুলস্তরের নিয়োগে অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের যুবসমাজ স্থায়ী কাজ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা ভেঙে পড়েছে বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের। তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, বিরোধীরা বিষয়গুলিকে অতিরঞ্জিত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
নারী নিরাপত্তা ও পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বিজেপির চার্জশিটে। দলের দাবি, প্রশাসনিক দুর্বলতার জেরেই একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে অনুপ্রবেশ ও পাচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। চার্জশিটের মাধ্যমে ভোটারদের সামনে বিজেপির প্রশ্ন, রাজ্যে আদৌ কতটা নিরাপদ সাধারণ মানুষ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, ৩০টি বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে তৈরি এই চার্জশিটের মাধ্যমে রাজ্যে নিজেদের রাজনৈতিক জমি আরও চওড়া করতে চাইছে বিজেপি। দুর্নীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তা— এই বিষয়গুলিই এখন রাজ্য রাজনীতির মূল আলোচনার কেন্দ্রে। চার্জশিটের প্রভাব শেষ পর্যন্ত কতটা পড়বে, তা ভোটের ফলই বলবে, তবে নির্বাচনী লড়াই যে আরও তীব্র হচ্ছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।