রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেই ইমেজ পুনর্গঠনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাকের সাহায্য নিচ্ছেন। শুভেন্দুর মতে, এর ফলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা আরও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
.jpg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 7 February 2026 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ফের উত্তাল হয়ে উঠল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty) সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে প্রশাসনের কার্যকলাপ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অবৈধ নিয়োগ থেকে শুরু করে সই জাল - প্রশাসনিক স্তরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনেছেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যসচিবকেই অবৈধভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, মাইক্রো অবজার্ভারদের (Micro Observer) সই পর্যন্ত নকল করা হয়েছে। এই সব ঘটনার জন্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই বলেই মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ‘স্পাইনলেস’ হয়ে পড়েছে এবং সরকারি আধিকারিকরা ভীত ও আতঙ্কিত অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজ্য পুলিশের (West Bengal Police) ভূমিকা নিয়েও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেই ইমেজ পুনর্গঠনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাকের (I-PAC) সাহায্য নিচ্ছেন। শুভেন্দুর মতে, এর ফলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা আরও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে আগামী এপ্রিলেই রাজ্যে সরকার বদল অনিবার্য।
মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের ভূমিকা নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে গুন্ডা ও দুর্বৃত্তদের কার্যত নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। পাশাপাশি মুখ্যসচিব প্রশাসনকে ভুল পথে চালিত করছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে বিভিন্ন মহলে আশ্বাস দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের তালিকায় উঠে এসেছে বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের বিডিও সংক্রান্ত ঘটনাও। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ নির্বাচন কমিশন দিলেও রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ মানেনি। বরং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, শুভেন্দুর অভিযোগ অনুযায়ী, মুখ্যসচিব জেলা শাসকদের ফোন করে বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী ‘খুব ভাল বাজেট’ পেশ করেছেন এবং সরকারবিরোধী হাওয়া ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে।
বিরোধী দলনেতার দাবি, ওই ফোনালাপে কমিশনের ক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করা হয়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, বলা হয়েছে - কমিশন বিশেষ কিছু করতে পারবে না এবং তাদের কোনও কথাই শোনার প্রয়োজন নেই। এই সব অভিযোগকে সামনে রেখে শুভেন্দু রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার উপর গভীর প্রশ্ন তুলেছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের টানাপড়েনের মধ্যেই প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।