বিজেপির লক্ষ্য, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে এই যাত্রাকে নিয়ে যাওয়া। কর্মসূচির আওতায় থাকবে ৬০টি বড় জনসভা এবং আনুমানিক ৩০০টি ছোট সভা। বৃহত্তর কলকাতার ২৯টি বিধানসভা এলাকায় আলাদা করে ট্যাবলো বের করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য এবং সুকান্ত মজুমদার
শেষ আপডেট: 27 February 2026 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) দিনক্ষণ এখনও ঘোষিত হয়নি। তার আগেই কার্যত ভোটের দামামা বাজিয়ে দিল বিজেপি (West Bengal BJP)। কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র (BJP Paribartan Yatra) অনুমতি দেওয়ার পরই সাংবাদিক বৈঠক করে কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করলেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya), সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder) ও শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একইসঙ্গে প্রকাশ্যে আনা হয় যাত্রার টিজার।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) কার্যত কোনও সরকার নেই। তাঁর কথায়, বর্তমান প্রশাসন এক 'জীবন্ত জীবাশ্ম'-এর মতো। তৃণমূল সরকার রাজ্যের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করেছে, সরকারি চাকরি বাজারে বিক্রি হয়েছে, এমন অভিযোগও তোলেন তিনি। দুর্নীতি এখন শাসকদলের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শমীক।
এই কর্মসূচিকে তিনি সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর আহ্বান, শুধু বিজেপি সমর্থক নয় - তৃণমূলের হতাশ কর্মী, এমনকি বাম ও কংগ্রেসের সমর্থকরাও এই যাত্রায় শামিল হোন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের 'হৃত গৌরব' পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য বহু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পাশাপাশি ধর্মীয় ভারসাম্য বদলে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। দেশজুড়ে ধরা পড়া জঙ্গিদের ভোটার কার্ড এই রাজ্যে তৈরি হয়েছে - এমন অভিযোগও তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় না হলে দেশের রাজনৈতিক লড়াই সম্পূর্ণ হবে না।
সুকান্ত মজুমদারও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শাসকদলকে নিশানা করেন। তাঁর কথায়, এই যাত্রা কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, পরিবর্তনের দাবিতে মানুষের মনোভাবের প্রতিফলন। এমনকি ভবানীপুরের মতো এলাকাতেও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভোট দিতে পারব কিনা, ভোট গণনা সঠিক হবে কিনা - এই সংশয় দূর করতেই যাত্রার উদ্দেশ্য বলে জানান সুকান্ত।
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, যাত্রার সমাপ্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি বৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর ব্রিগেডে মোদীর সভার জন্য তিনটে দিন পাঠান হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। মার্চ মাসের ১৩, ১৪ অথবা ১৫ তারিখ এই সভা করতে চাইছে রাজ্য বিজেপি।
এই তিনটে দিনের মধ্যে কোনও একটি দিন পিএমও থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেই মনে করছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। অন্যথায় পিএমও থেকে আলাদা দিনও ঠিক করে দিতে পারে। তবে রাজ্য বিজেপি চাইছে এই পরিবর্তন যাত্রা শেষের (১০ মার্চ) এক সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ব্রিগেডে সভা করতে।
মোট ৯টি পৃথক যাত্রা আয়োজন করা হয়েছে। ১ ও ২ মার্চ থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি। প্রথম দিনে কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসান এবং আমতা থেকেও আরও চারটি যাত্রা বেরোবে। দোল (Holi Festival) উৎসবের কারণে ৩ ও ৪ মার্চ কোনও কর্মসূচি রাখা হয়নি। ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছে দল।
বিজেপির লক্ষ্য, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে এই যাত্রাকে নিয়ে যাওয়া। কর্মসূচির আওতায় থাকবে ৬০টি বড় জনসভা এবং আনুমানিক ৩০০টি ছোট সভা। বৃহত্তর কলকাতার ২৯টি বিধানসভা এলাকায় আলাদা করে ট্যাবলো বের করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবারের নির্দেশে জানিয়েছে, যাত্রায় একসঙ্গে এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। ১ মার্চ থেকে ৬ মার্চের মধ্যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। শব্দবিধি সংক্রান্ত সমস্ত আইন কঠোরভাবে মানার কথাও জানানো হয়েছে।
বক্তব্য নিয়েও সতর্কতা জারি করেছে আদালত। কোনও রকম কুরুচিকর বা উত্তেজনামূলক মন্তব্য করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে - এমন মন্তব্য বা কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কর্মসূচির জেরে যানজট তৈরি করা যাবে না। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। পাশাপাশি, অন্তত ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।
সরকারি, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির কোনও ক্ষতি করা চলবে না বলেও নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি কোনওভাবে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়, তার দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকেই নিতে হবে।