তৃণমূলের অভিযোগ, এই নির্দেশের ফলে বহু ভোটার অনিশ্চয়তার মুখে। কারণ নতুন করে নথি আপলোডের সুযোগ নেই। শেষ মুহূর্তে নিয়ম বদলের ফলে বৈধ নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি সাংসদের।

মহুয়া মৈত্র এবং মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 27 February 2026 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (West Bengal SIR) ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (WB SIR Final Voter List) প্রকাশের কথা। কিন্তু তার আগে ফের নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তাঁর দাবি, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে তথ্যগত অসঙ্গতির (Logical Discrepency) অজুহাতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 'নোংরা গেম খেলছে কমিশন', বলেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় মহুয়ার বক্তব্য, খসড়া তালিকা প্রকাশের (Draft Voter List) পর এক কোটির বেশি ভোটারকে পুনরায় শুনানিতে ডেকে হয়রান করা হয়েছে। এঁদের প্রত্যেকের নামের সঙ্গে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সংযোগ রয়েছে। শুনানির সময় জানানো হয়েছিল, ওই যোগসূত্রের প্রমাণের পাশাপাশি আধার কার্ড (Aadhaar Card) জমা দিলেই তা গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু এখন নাকি জুডিশিয়াল অফিসারদের মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে - লিঙ্কেজ সংক্রান্ত মামলায় আধার কার্ড গ্রহণ করা যাবে না।
তৃণমূলের অভিযোগ, এই নির্দেশের ফলে বহু ভোটার অনিশ্চয়তার মুখে। কারণ নতুন করে নথি আপলোডের সুযোগ নেই। শেষ মুহূর্তে নিয়ম বদলের ফলে বৈধ নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি সাংসদের।
এদিকে জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ ওঠে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে না জানিয়ে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নির্দেশ দিচ্ছে কমিশন। তবে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে জানায়, অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ হওয়া উচিত নয়।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও (CEO Manoj Agarwal) অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি এমন কোনও নির্দেশের খবর জানেন না। কেউ গোপনে নির্দেশ দিলে তার দায় অভিযোগকারীদেরই প্রমাণ করতে হবে।
উল্লেখযোগ্য, এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের মতো বাইরের রাজ্য থেকেও আধিকারিক এসেছেন।
রাজ্যের তরফে আরও অভিযোগ, কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে কমিশন সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছে, যা শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরিপন্থী। এসডিও-দের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট না নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে দাবি। বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতামত না নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত এই অভিযোগগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি।