এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য কী তা বিবৃতির মাধ্যমে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, পরিবর্তনের বাংলায় মহিলাদের জন্য বিরাট তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 5 March 2026 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Elections 2026) সামনে রেখে পরিবর্তনের ডাক তুলে রাজনৈতিক প্রচার জোরদার করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (West Bengal BJP)। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে তাঁদের 'পরিবর্তন যাত্রা' (BJP Paribartan Yatra)।
এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য কী তা বিবৃতির মাধ্যমে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, পরিবর্তনের বাংলায় মহিলাদের জন্য বিরাট তহবিল (Fund For Women In West Bengal) গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।
মহিলাদের জন্য ৫,৭০০ কোটি
তবে নারী উন্নয়নকে নির্বাচনী অগ্রাধিকারের তালিকায় কার্যত সবার ওপরেই রেখেছে বিজেপি। দল জানিয়েছে, রাজ্যে নারীদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল (5,700 Crore Fund For Women) গঠন করা হবে। এই অর্থ ব্যবহার করা হবে জীবিকা প্রকল্প, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, শিক্ষা সহায়তা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো উদ্যোগে।
সপ্তম পে কমিশন
'পরিবর্তন যাত্রা'র (BJP Paribartan Yatra) মাধ্যমে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং কর্মসংস্থান পৌঁছে দিতে চায় - এমনই লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই ক্ষমতায় এলে প্রথম সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি হবে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) চালু করা। দলের দাবি, এতে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
কর্মসংস্থান
একই সঙ্গে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। বিজেপির অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বিপুল সংখ্যক সরকারি পদ তুলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বহু তরুণ চাকরির সুযোগ হারিয়েছেন। ক্ষমতায় এলে সেই সব পদ পুনরায় চালু করা হবে এবং শূন্য পদে স্বচ্ছ ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে দল।
অনুপ্রবেশ রোধ
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে দলটি। বিজেপির দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। ক্ষমতায় এলে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলিতে সম্পূর্ণ বেড়া নির্মাণ করে অনুপ্রবেশ রোধ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
কাটমানি সংস্কৃতি বন্ধ
এছাড়া রাজ্যে তথাকথিত কাটমানি ও দাদাগিরির সংস্কৃতি বন্ধ করার কথাও বলেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, ব্যবসা থেকে নির্মাণ কাজ - বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দল জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে এই সংস্কৃতি ভেঙে দিয়ে স্বাভাবিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
ব্রিগেডে মোদী
এদিকে ইতিমধ্যে এও জানা গেছে, আগামী ১৪ মার্চ কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড ময়দানে একটি বৃহৎ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপির দাবি, ওই সভা থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা আরও জোরালো হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নারী নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রচার জোরদার করতে গিয়ে কার্যত বর্তমান রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকেই পাল্টা রাজনৈতিক বার্তার কেন্দ্রবিন্দু করেছে বিজেপি। দলের একাধিক নেতা, এমনকি শুভেন্দু অধিকারীও আগেই ঘোষণা করেছেন, ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক উপভোক্তা মহিলাকে মাসে অন্তত ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সেই প্রেক্ষিতেই মহিলাদের জন্য ৫ হাজার ৭০০ কোটির তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিকে পরিবর্তন যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।