ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, ত্রাণ বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ থেকে শুরু হয় বিবাদ, যা মুহূর্তে রূপ নেয় হম্বিতম্বি, তর্ক, শাসানিতে। সাংসদের এই ‘দাদাগিরি’ ঘিরে নানামহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

আঙুল উঁচিয়ে শাসানি মনোজের
শেষ আপডেট: 1 November 2025 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রাণ বিতরণ ঘিরে প্রশাসনিক অফিসেই উত্তেজনা! আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে (Manoj Tigga) দেখা গেল মাদারিহাটের (Madarihat) বিডিওর সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়াতে। কখনও টেবিল চাপড়ে, কখনও আঙুল উঁচিয়ে তিনি চড়া সুরে কথা বলেন বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral Video) হয়েছে।
ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, ত্রাণ বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ থেকে শুরু হয় বিবাদ, যা মুহূর্তে রূপ নেয় হম্বিতম্বি, তর্ক, শাসানিতে। সাংসদের এই ‘দাদাগিরি’ ঘিরে নানামহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশাসনিক দফতরের মধ্যেই সাংসদের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
উত্তরবঙ্গে হড়পা বানে হাজারো পরিবার জলবন্দি। চা বাগানের শ্রমিকদের বাড়ি-ঘর ভেসে গিয়েছে, ত্রাণের আশায় দিন গুনছেন তাঁরা। অভিযোগ, এতদিনেও সরকারি সাহায্য পৌঁছয়নি দুর্গত এলাকায়। এমন পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার মাদারিহাটে বিডিও অফিসে হাজির হন বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ নিয়েই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে যে ঘটনা ঘটল, তাতে তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অফিসে ঢুকেই বিডিও অমিত চৌরাশিয়ার সঙ্গে তর্কে জড়ান সাংসদ। মুহূর্তেই চড়ে যায় সুর। টেবিল চাপড়ে, আঙুল উঁচিয়ে অপমানজনক কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। এমনকি, বিডিওকে ‘তৃণমূলের পতাকাবাহী অফিসার’ বলেও কটাক্ষ করেন মনোজ। তবুও মেজাজ হারাননি আধিকারিক। শান্তভাবে সাংসদকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর শেষে অফিস ছেড়ে চলে যান সাংসদ।
বিজেপি সাংসদের এই আচরণ ঘিরে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ প্রকাশচিক বরাইকের কটাক্ষ, “একজন সাংসদ হয়ে উনি একজন WBCS অফিসারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন— এটা একেবারেই অসাংবিধানিক। এরা মানুষের পাশে নেই, কাজ করে না, উলটে আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন। এবার উত্তরবঙ্গের মানুষই ওদের জবাব দেবে।”
ঘটনার পর বিডিও বলেন, “উনি কোনও খবর না দিয়েই অফিসে এসেছিলেন। পুরো ঘটনা ভিডিও করে চলে যান। আমি সরকারি দায়িত্ব পালন করতে এসেছি, ঝগড়া করতে নয়।” পরে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।
প্রসঙ্গত, এর আগেও ত্রাণ বিতরণ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক— দু' প্যাকেট মুড়ি নিয়ে পৌঁছে এক বৃদ্ধকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধেও। উত্তরবঙ্গের বন্যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তাই আরও তীব্র হচ্ছে।