২৬-এর বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election) ঘোষণার আগেই পাহাড়ে ধাক্কা খেল বিজেপি (BJP)। কার্শিয়ংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা (Vishnu Prasad Sharma) যোগ দিলেন তৃণমূলে (TMC)।

তৃণমূলে বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা
শেষ আপডেট: 19 February 2026 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬-এর বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election) ঘোষণার আগেই পাহাড়ে ধাক্কা খেল বিজেপি (BJP)। কার্শিয়ংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা (Bishnu Prasad Sharma) যোগ দিলেন তৃণমূলে (TMC)। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজার উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শাসক দলে নাম লেখালেন তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) কার্শিয়ং কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ে জয়ী হয়েছিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ। সেই বার তিনি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (তামাং)-এর প্রার্থী শেরিং লামা দহলকে ১৫,৫১৫ ভোটে পরাজিত করেন। পরে বিজেপিতে যোগ দেন এবং বিধানসভায় গেরুয়া শিবিরের সদস্য হিসেবেই ছিলেন এতদিন।
তবে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা অধিবেশনে তাঁর মন্তব্য ঘিরেই জল্পনা শুরু হয়। তিনি বলেছিলেন, “আমি আর রাজনীতির সঙ্গে নেই। এখন আমি মুক্ত পাখি, শৃঙ্খলমুক্ত।” সেই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছিল তাঁর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে।
অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন পাহাড়ের এই বিধায়ক। ভোটের প্রাক্কালে এই দলবদল পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলে যোগ দিয়ে কার্শিয়ংয়ের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, “আপনারা যে রাজনৈতিক চিহ্নে আমাকে ভোট দিয়েছিলেন, সেই রায়ের মর্যাদা আমি আজ পর্যন্ত রেখেছি।”
নিজের দলবদলের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর দাবি, মানুষের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “আমার জনগণ আমার উপর বিশ্বাস করেছিলেন। তাঁদের স্বপ্ন— উন্নত সমাজ, উন্নত ভবিষ্যৎ, উন্নত প্রজন্ম। সেই লক্ষ্যেই আমি তৃণমূলে এলাম।”
পুরনো দল বিজেপি-কে আক্রমণ করে বিষ্ণুপ্রসাদের অভিযোগ, “যে দলে ছিলাম, কেন্দ্র থেকে টাকা পাঠায় না। কুণ্ঠা নিয়ে ছিলাম বিজেপিতে।” তাঁর দাবি, গত ১৭ বছর ধরে গোর্খা জনগণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের দাবি, বিষ্ণুপ্রসাদ অনেকদিন ধরেই দল ও পরিষদীয় দল থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিলেন। শঙ্করের কথায়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে সাতটি বিধানসভা মিলিয়ে ৭ হাজার ভোটও পাননি। সেই ফলাফলের উল্লেখ করে তাঁর কটাক্ষ, “যাঁর জনভিত্তি এতটাই সীমিত, তাঁকে দলে নিয়ে তৃণমূল কী বার্তা দিতে চাইছে?”
তৃণমূলের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে শঙ্কর বলেন, “ওঁকে ঠিক কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলে নেওয়া হল, সেটা তৃণমূল কংগ্রেসকেই জানাতে হবে।” তাঁর দাবি, বিষ্ণুপ্রসাদ-তৃণমূল দু’পক্ষের কেউই এই সমীকরণে লাভবান হবেন না। শঙ্কর বলেন, “২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেই দেখতে পাবেন— দু’জনেই ডুববে। কে কাকে নিয়ে ডুববে, সেটা এখন বলা মুশকিল।”