বুধবার সিইও দফতরে যায় তৃণমূলের পাঁচ প্রতিনিধি দল। সেই দলে ছিলেন পার্থ ভৌমিক, প্রতিমা মণ্ডল, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং মহুয়া মৈত্র। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলে এই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় নাম বাদ সংক্রান্ত অভিযোগ তোলেন মহুয়া।
.jpeg.webp)
সিইও দফতরে তৃণমূল প্রতিনিধি দল
শেষ আপডেট: 18 February 2026 19:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে আরও এক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, অনেক ভোটারের নথি ইআরও 'ফাউন্ড ওকে' (অর্থাৎ সব নথি যাচাই হয়েছে) করে দিলেও তাঁদের অনেকের নামের ক্ষেত্রে 'টু বি রিভিউড' (অর্থাৎ রিভিউ করতে হবে) করে দেওয়া হচ্ছে রোল অবর্জাভারদের (Roll Observers) লগ-ইন থেকে। সূত্রের খবর, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নামগুলি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার। বুধবার সকালেই এই নিয়ে খবর করেছিল দ্য ওয়াল। বিকেলে সিইও দফতরে গিয়ে এই ইস্যু নিয়েই সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Delegation)।
বুধবার সিইও দফতরে যায় তৃণমূলের পাঁচ প্রতিনিধি দল। সেই দলে ছিলেন পার্থ ভৌমিক, প্রতিমা মণ্ডল, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং মহুয়া মৈত্র। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলে এই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় (Minority Areas) নাম বাদ সংক্রান্ত অভিযোগ তোলেন মহুয়া। তিনি স্পষ্ট বলেন, রোল অবজার্ভাররা লগ-ইন করে নথি রিভিউতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সংখ্যালঘু এলাকায় এগুলি বেশি হচ্ছে।
সূত্র মারফৎ জানা গেছে, রাজ্যের একটি জেলায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এমন ভোটারের সংখ্যা (টু বি রিভিউড) ছিল দেড় হাজার। তবে বুধবার সকালেই সেই সংখ্যা পৌঁছয় প্রায় ৮ হাজারে! এই বিষয় নিয়েই মহুয়া গর্জে ওঠেন। বলেন, ''প্রত্যেক ডিইও-দের নিজস্ব লগ-ইন থাকে। কিন্তু তাঁদের লগ-ইন ব্যবহার করে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে আর সংখ্যালঘু এলাকায় তা বেশি হচ্ছে।'' এখানেই তাঁর প্রশ্ন, কেন এইভাবে লগ-ইন ব্যবহার করে নথি রিভিউতে পাঠানো হচ্ছে?
যদিও এই ঘটনা শুধুমাত্র সংখ্যালঘু এলাকায় হচ্ছে বা সংখ্যালঘুদের নামের ক্ষেত্রেই বারবার 'টু বি রিভিউড' করা হচ্ছে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ সিইও দফতর।
উদাহরণস্বরূপ এক আধিকারিক বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, শেখ রাজেশ আলি নামের একজন ভুবনচন্দ্র বেরা নামের এক ব্যক্তিকে বাবা হিসেবে দেখিয়েছেন কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোনও নথিই জমা দেননি। অর্থাৎ প্রমাণ হিসেবে কোনও নথি আপলোড হয়নি তবুও এইআরও সেটিকে 'ফাউন্ড ওকে' করে দিয়েছেন!
সূত্র মারফৎ আরও জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল বাদ দিয়ে রাজ্যের অন্যান্য জেলার বেশিরভাগ বিধানসভা থেকে এমন ঘটনার খবর আসছে। বিধানসভা প্রতি গড়ে কমবেশি ১০ হাজার এমন ভোটারের সংখ্যা পৌঁছতে পারে।
সংখ্যালঘুদের কিছু পদবী ধরে ধরে ‘সিস্টেম’ প্রশ্ন তুলছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তাও মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর খারিজ করে দিয়েছে। সিইও মনোজ আগরওয়ালের বক্তব্য, ''এমন কিছু হতেই পারে না। সিস্টেম কী করে বুঝবে কার নাম কী! এতজন অবজার্ভার, মাইক্রো অবজার্ভার কাজ করছেন, এমন যদি হত তাহলে আমাদের নলেজে আসত।'' তবে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে জানিয়েছেন, “যাঁরাই নির্দিষ্ট ১৩টি নথির বাইরে নথি জমা দিয়েছেন কিংবা লিংকড হওয়ার পর প্রমাণ দিতে পারেননি, কেবল তাঁদের ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকার পরও 'ফাউন্ড ওকে' করলে এমন হলে হতে পারে।''
অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার সি মুরুগানকে (C Murugan) নিয়ে যে অভিযোগ তুলেছেন তার প্রেক্ষিতে মুরুগানের পদত্যাগ দাবি করেছে তৃণমূল। মহুয়ার কটাক্ষ - উনি 'কুইক গান মুরুগান', ওঁকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল হোয়াটসঅ্যাপে কোনও নির্দেশ দিতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে, মাইক্রো অবজার্ভারদের (Micro Observer) ভূমিকা সহায়ক মাত্র, সিদ্ধান্তমূলক নয়। কিন্তু তিনি সি মুরুগানের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করেন, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে কমিশন। মুরুগান সরাসরি মাইক্রো অবজার্ভারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্থ সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন।
যদিও বিষয়টি নিয়ে দ্য ওয়াল-কে স্পেশ্যাল অবজার্ভার মুরুগান জানান, যে স্ক্রিনশটের কথা বলা হচ্ছে তাতে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশনের যে নির্দেশ রয়েছে তারই ক্ল্যারিফিকেশন দেওয়া হয়েছে। আলাদা করে কাউকে কোনও নির্দেশ বা কোনও কিছুর নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।