পথচলতি মানুষের সমর্থনকেই তিনি রাজনৈতিক অক্সিজেন হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “মানুষ বলেছে—দাদা, পারতেই হবে। এদের সরাতে হবে। এটা আশীর্বাদের মতো।”

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 23 January 2026 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের লড়াই শুরু হতেই উত্তরবঙ্গের (North Bengal) রাজনীতিতে অনশন-উত্তাপ। বিধায়ক তহবিল আটকে দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার অনশনে (Hunger Strike) বসে শুক্রবার তা ভাঙলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (BJP MLA Sankar Ghosh)।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে অনশন ভেঙে তাঁর পাদদেশে মালা দিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। পাল্টা আক্রমণে নামল শাসক শিবিরও। হুঁশিয়ারি এল আইনি পদক্ষেপের।
বৃহস্পতিবার সকালে শিলিগুড়ির হাতিমোড়ে অনশন শুরু করেছিলেন শঙ্কর ঘোষ। অভিযোগের কেন্দ্রে বিধায়ক তহবিল। বিধায়কদের জন্য পাঁচ বছরে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেই অর্থ খরচে পরিকল্পিত বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। কোথাও প্রকল্পের অনুমোদন ঝুলে রয়েছে, কোথাও আবার ছাড়পত্র মিললেও কাজ শুরু হয়নি। অন্তত নয়টি এমন প্রকল্পের তালিকা তুলে ধরেন তিনি, যেগুলি কাগজে থাকলেও বাস্তবে অচল। বারবার ডেপুটেশন জমা দিয়েও কোনও সাড়া মেলেনি বলেই অনশনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত, এমনটাই দাবি শঙ্করের।
অনশন ভাঙার পর নেতাজির প্রসঙ্গ টেনে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আজ নেতাজির জন্মদিন। তিনি যেমন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন, ঠিক তেমনই আজ পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি এই অনশন থেকে পেলাম।”
পথচলতি মানুষের সমর্থনকেই তিনি রাজনৈতিক অক্সিজেন হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “মানুষ বলেছে—দাদা, পারতেই হবে। এদের সরাতে হবে। এটা আশীর্বাদের মতো।”
শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের দিকেও বার্তা দেন শিলিগুড়ির বিধায়ক। শঙ্করের স্পষ্ট ঘোষণা, “আজ আমি বিরোধী দলে। কাল আমরা সরকারে বসব। তখন বিরোধীদের যেন এই দশা না হয়, এই উপলব্ধি নিয়েই নেতাজির জন্মদিনে অনশন ভাঙলাম।”
শঙ্করের অনশন ঘিরে শাসক শিবিরও চুপ থাকেনি। শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র গৌতম দেব কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, “সিপিএম থেকে বিজেপিতে যাওয়ার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাটা আগে দিন। আর যদি এতই জনপ্রিয় হন, তাহলে পুরনিগম নির্বাচনে নিজের ওয়ার্ডে তৃতীয় হলেন কেন?” এখানেই থামেননি তিনি। শঙ্করের বক্তব্য নিয়ে আইনি নোটিস পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দেন মেয়র।