বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁকে প্রতিনিধিদলে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

শুভেন্দু অধিকারী ও ইউসুফ পাঠান
শেষ আপডেট: 19 May 2025 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রচার চালাতে বহুদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদল বিদেশ সফরে যাবে। এই প্রতিনিধি দলে নাম রয়েছে বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ (TMC MP) ইউসুফ পাঠানের (Yusuf Pathan)। কিন্তু তিনি যাচ্ছেন না বলেই খবর। বিষয়টি নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) অসন্তুষ্ট। আর এই সুযোগে পাঠানকে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। বললেন, তিনি সাম্প্রদায়িক কার্ড খেলে জিতেছিলেন।
বহরমপুরের (Berhampore) তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁকে প্রতিনিধিদলে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তিনি নাকি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, এই সফরে অংশ নেবেন না। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফেও পাঠানের অংশ না নেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। মূলত এই প্রসঙ্গেই ইউসুফ পাঠানকে 'সাম্প্রদায়িক' বলে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক কী বক্তব্য তাঁর?
বিজেপি নেতার কথায়, কোনও উন্নয়নের কথা বলে নয়, সাম্প্রদায়িক কার্ড খেলে বহরমপুরে জিতেছিলেন ইউসুফ পাঠান। শুভেন্দু বলছেন, ''বহরমপুরের ঘরের ছেলেকে সেখানকার মানুষ ভোট দেয়নি কারণ তাঁর নাম অধীর চৌধুরী। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকের মতো তাঁর নাম হলে তিনি ভোট পেতেন।'' বিজেপি নেতা এও মনে করান, ২০১৯ সালে তিনি ওখানে তৃণমূলের হয়ে ভোট করিয়েছিলেন। তৃণমূল প্রথম খাতা খুলেছিল। তবে জিততে পারেনি। সেই সময় নাকি ওখানকার তৃণমূল কর্মীরাই তাঁকে বলেছিলেন, সংখ্যালঘু প্রার্থী দিলে সে নাকি জিতে যেত। এমনই দাবি শুভেন্দুর। তৃণমূলকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, তাঁরা সাম্প্রদায়িক নন, রাষ্ট্রবাদী। সাম্প্রদায়িকতা উল্টো দিক দিয়ে আসে।
প্রসঙ্গত, ইউসুফ পাঠান ইস্যুতে রবিবার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে জানিয়ে দেয়, তিনি বা দলের কোনও সাংসদই বিদেশ সফরকারী বহুদলীয় প্রতিনিধিদলে অংশ নেবেন না। তাঁদের সাফ কথা, বিদেশনীতি একান্তভাবেই কেন্দ্র সরকারের অধিকারভুক্ত বিষয়। তাই বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব এবং তার কূটনৈতিক দায়িত্ব সরকারই গ্রহণ করুক। তৃণমূলের এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, একদিকে দল সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেও, বিদেশে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে কেন্দ্রের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে স্পষ্ট ভাষায়।