রাজ্যে তৃণমূলের সন্ত্রাস নিয়েও এদিন সরব হন অমিত শাহ। যাঁর জবাবে অভিষেক বলেন, অমিত শাহ বাংলার রাজনীতি জানেন না। উনি তো কিছু দিন জেলে কাটিয়েছেন ওই সময় বাংলার ইতিহাস টা পড়তে পারতেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 31 January 2026 16:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের ওয়াও মোমো কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (Anandapur Fire) ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র সংঘাত। ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) রাজ্য সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে দাবি করেন, অপরাধীদের আড়াল করতে চাইছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে হুঙ্কার শাহের, “এই অগ্নিকাণ্ডে আপনার লোকজন জড়িত। পর্দা দিতে চাইলে দিন। এপ্রিলের পর বিজেপি সরকার এলে, একে একে সবাইকে জেলে পাঠানো হবে।”
এই হুমকির পাল্টা জবাবে কোনও রাখঢাক না রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। তাঁর কড়া মন্তব্য, “বিজেপি মৃতদেহ নিয়ে শকুনের রাজনীতি করে। ওদের রাজনীতি লাশ খুঁজে বেড়ায়।” অভিষেকের দাবি, ঘটনার পরই পুলিশ কারখানার মালিককে গ্রেফতার করেছে।
কারখানার মালিকের ঘনিষ্ঠতা ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গ তুলে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, বিমানে সফর করলেও সংশ্লিষ্ট মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি। পাল্টা অভিষেকের খোঁচা— “নীরব মোদী তো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন।” একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শিল্পপতিরা বিদেশ সফরে যাবেন— এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটি দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোংরা রাজনীতি করা বিজেপির পুরনো কায়দা।”
অভিষেক এও বলেন, একটা বেসরকারি কারখানার গোডাউন তার মধ্যে কে কী পরিস্থিতিতে আছে সেটা সরকারের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। খবর পাওয়া মাত্র সরকার ও জেলা প্রশাসন যথাযথ কাজ করেছে। গ্রেফতারও করেছে। আমরা চাই, এর সঙ্গে যদি আর কেউ জড়িত থাকে সে যত বড় শিল্পপতি হোক, তাকে আমাদের সরকার বরদাস্ত করবে না। কিন্তু যে নীরব মোদী ভারতকে সর্বশান্ত করে ২০ হাদার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তারা তো নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছে।
অভিষেক আরও বলেন, আনন্দপুরের ঘটনার দায় যদি বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিতে চায়, তবে এসআইআরে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর দায়ও বিজেপিকে নিতে হবে।
আরজি কর মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করান, আরজি কর নিয়ে অনেক কুৎসা করা হয়েছিল। যেটা কলকাতা পুলিশ এক ঘণ্টাই করেছে, সেটা সিবিআইয়ের করতে এক বছর লেগেছে। অথচ সিবিআইয়ের তদন্তের দায়িত্বে থাকা অফিসারকে সরকার মেডেল দিয়েছে! ফলে এরা যে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রাজনীতি করে, তা স্পষ্ট।
এই প্রসঙ্গে অপরাজিতা বিলের কথা মনে করিয়ে অভিষেক বলেন, দেড় বছর পরেও সেই বিল পাশ হচ্ছে না কেন? কারণ এই বিল পাশ হলে বিজেপির সব ধর্ষকগুলোর সাজা হবে। বিলকিস ধর্ষণে অভিযুক্তরা বেল পাওয়ার পর তাঁদের উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছিল বিজেপি। এটাই ওদের কালচার।
অমিত শাহের ‘৫ লক্ষ কোটি টাকা উন্নয়ন তহবিল’ দাবির জবাবে অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “সাত বছরে জিএসটি বাবদ সাড়ে ৬ লক্ষ কোটি টাকা বাংলা থেকে নিয়ে গেছে। আমি তো পরিসংখ্যান দিচ্ছি, ক্ষমতা থাকলে শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন।"
এসআইআর ইস্যুতেও বিজেপিকে আক্রমণ করেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে পেরে না উঠে এসআইআরের নামে বাংলার ১০ কোটি মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। অভিষেক বলেন, ওদের সাংসদরাই তো বলেছে, মতুয়াদের নাম বাদ গেলে যাবে। শান্তনু ঠাকুর, অসীম সরকাররাই তো মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। ওরাই তো বলেছিল, ১ কোটি নাম বাদ যাবে! তাঁর মন্তব্য, “এসআইআর দেখিয়ে ভয় দেখাতে চাওয়া বিজেপি বুঝতে পারছে, পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। আগামী দিনে ভোটের শতাংশই তার প্রমাণ দেবে।”
রাজ্যে তৃণমূলের সন্ত্রাস নিয়েও এদিন সরব হন অমিত শাহ। যাঁর জবাবে অভিষেক বলেন, অমিত শাহ বাংলার রাজনীতি জানেন না। উনি তো কিছু দিন জেলে কাটিয়েছেন ওই সময় বাংলার ইতিহাসটা পড়তে পারতেন!। সিপিএম যেভাবে একের পর এক গণহত্যা করেছে তা বাংলার মানুষ ভুলে যায়নি। সে সময় একাধিক গণহত্যায় জড়িত সিপিএম নেতা ও তাঁদের ছেলেরাই এখন বিজেপির নেতা।