
শেষ আপডেট: 30 December 2022 10:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভগবান রামের উপর বিজেপির (BJP) কোনও কপিরাইট নেই। মধ্যপ্রদেশের গেরুয়াধারী বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী (Uma Bharti) আজ এই কথা বলেছেন। ওই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উমা আজ ছিন্দওয়ারা জেলায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিজেপির কিছু লোকজনের হাবভাব এমন যেন ভগবান রামচন্দ্র এবং হনুমানের উপর আমাদের কপিরাইট (copyright) রয়েছে। এই ভাবনা ত্যাগ না করলে বিজেপি ধ্বংস হয়ে যাবে।
মধ্যপ্রদেশে বিজেপির দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী উমা দেশের প্রথম সন্ন্যাসিনী প্রশাসক। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের মতো উমাও সর্বক্ষণ গেরুয়া পোশাক পরেন। অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণীদের ঘনিষ্ঠ এই নেত্রী বিজেপির রামমন্দির আন্দোলনের অন্যতম মুখ। জঙ্গি নেত্রী হিসাবে পরিচিত উমা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন অযোধ্যায় রামরথে আডবাণী, মুরলি মনোহর যোশীদের পাশে ছিলেন। মসজিদ ধ্বংস নিয়ে সিবিআইয়ের চার্জশিটে নামও ছিল তাঁর। যদিও প্রমাণাভাবে বাকিদের মতো তাঁকেও রেহাই দিয়েছে লখনউয়ের নিম্ন আদালত।
বিজেপির হিন্দুত্বের রাজনীতির গোড়াকার মুখ উমা আজ বলেন, হিন্দুরা বিজেপির বাঁধা ভোটার নয়। তা যদি হত, তাহলে হিমাচলপ্রদেশে বিজেপি হারত না।
উমার আজকের আরও কিছু কথা রাজনৈতিক শিবিরে সাড়া ফেলেছে। তিনি বলেন, ভগবাম রাম, বীর হনুমানকে আমরা অবশ্যই পুজো করব। তাই বলে এটা যেন না ভাবি যে ওঁরা বিজেপির কর্মকর্তা। বিজেপি তো সেদিনের পার্টি।
বরাবর বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বিখ্যাত এই বিজেপি নেত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম মন্ত্রিসভার জলশক্তি মন্ত্রকের মন্ত্রী ছিলেন। দু’দিন আগেই নিজের রাজ্যে লোধ সমাজের অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর ভাষণ নিয়েও জোর শোরগোল চলছে বিজেপির অন্দরে। উমা নিজে অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণির অংশ লোধ সম্প্রদায়ের মানুষ। লোধরা মধ্যপ্রদেশের জনসংখ্যার প্রায় নয় শতাংশ। উমার হাত ধরে তারা বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক বনে গিয়েছে।
সেই লোধ সমাজের সম্মেলনে উমা বলেছেন, নিজের ভোট কোনও দলের কাছে বাঁধা রাখবেন না। যে দলকে মন চায় ভোট দিন। দলের মুখ চেয়ে ভোট দেবেন না।
মধ্যপ্রদেশে আগামী বছর নভেম্বরে বিধানসভার ভোট হওয়ার কথা। তার আগে উমার বক্তব্য ও কর্মধারা নিয়ে বিজেপির অন্দরে তোলপাড় চলছে। উমা আজ দেশের দারিদ্র, বেকারি নিয়েও সরব হন।
তবে বিজেপির এই জঙ্গি নেত্রীর ইদাংনী মদ বিরোধী অভিযানই সবচেয়ে সাড়া ফেলেছে মধ্যপ্রদেশে, যা নিয়ে বিজেপি পরিচালিত সরকার অত্যন্ত বিব্রত। মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান একাধিকবার দলের জাতীয় নেতৃত্বের কাছে উমার নামে নালিশ করেছেন। কিন্তু উমার মুখে তালা পরানো যায়নি।
উমা মদের ঠেক এবং দোকান ভেঙে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন তাঁর কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশে। রাজধানী ভোপালের মতো শহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর লাঠি হাতে মদের দোকান ভাঙার দৃশ্য ক’দিন আগেই ভাইরাল হয়েছিল। এখন দেখার নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা এই জঙ্গি নেত্রীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেন কি না।
দলের একাংশ অবশ্য ভিন্ন কথা বলছে। তাঁদের দাবি, মধ্যপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজকে সরিয়ে উমাকে বসাতে পারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শিবরাজের কাজকর্ম নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন আছে দলেই। যদি শিবরাজকে ভোটের আগে না সরানো হয় তাহলে দল জিতলেও তিনি আর মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন না। শূন্যস্থান পূরণে উমার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সরকারি অনুষ্ঠানে মমতার উদ্দেশে ‘জয় শ্রীরাম’ বিজেপির কৌশল, নাকি কর্মীরা বেলাগাম