ভারতীয় সেনার এলিট প্যারা স্পেশাল ফোর্সের সদস্য ছিলেন সুজয়। পোস্টিং ছিল জম্মু কাশ্মীরের অনন্তনাগে। ৬ ও ৭ অক্টোবর কোকেরাংয়ের আহলান গাডোল এলাকায় জঙ্গি দমন অভিযানে সামিল হয়েছিলেন তিনি।

শেষ আপডেট: 11 October 2025 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: সামান্য জমি জায়গাতে চাষ আবাদ করতেন বাবা। তার আয়ে কোনওমতে সচল থাকত সংসারের চাকাটা। বড় হওয়া, পড়াশোনা করা সবকিছুই করতে হয়েছে অনেক বাধার মধ্যে দিয়ে। তবুও একটু বড় হওয়ার পর থেকেই স্বপ্ন দেখতেন এনএসজি কমান্ডার হবেন। সেই স্বপ্নই থমকে গেল বীরভূমের রাজনগর কুন্ডিরার নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সুজয় ঘোষের।
ভারতীয় সেনার এলিট প্যারা স্পেশাল ফোর্সের সদস্য ছিলেন সুজয়। পোস্টিং ছিল জম্মু কাশ্মীরের অনন্তনাগে। ৬ ও ৭ অক্টোবর কোকেরাংয়ের আহলান গাডোল এলাকায় জঙ্গি দমন অভিযানে সামিল হয়েছিলেন তিনি। খানিকটা এগোনোর পরেই প্রবল তুষার ধসের মুখোমুখি হন তাঁরা। নিখোঁজ হয়ে যান পলাশ ঘোষ ও ল্যান্স নায়েক সুজয় ঘোষ। কর্তব্যরত অবস্থায় তুষারধসে চাপা পড়েন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সুজয় ঘোষের দেহ উদ্ধার হয়। শুক্রবার মেলে পলাশের দেহ।
সেই খবর আসার পর থেকেই শোকে স্তব্ধ বীরভূমের রাজনগর কুন্ডিরা ও মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার রুকুনপুর বলরামপাড়া গ্রাম। সুজয়ের বন্ধু দীনবন্ধু ঘোষ বলেন, "ছোট থেকে আমরা একই স্কুলে পড়তাম। আর স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ও চাইত এনএসজি কমান্ডার হবে। এখন ভারতীয় সেনার এলিট প্যারা স্পেশাল ফোর্সের সদস্য ছিল। তবে পরের পর পরীক্ষা দিচ্ছিল ওর স্বপ্ন পূরণের জন্য। সেটা আর পূরণ হল না।"
সুজয়ের দাদা মৃত্যুঞ্জয় জানালেন, অভিযানে যাওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল ভাইয়ের। সুজয় জানিয়েছিল, অনেক উপরে উঠছেন। তাই হয়তো আর মোবাইলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে না। ফিরে এসে ফোন করবেন বাড়িতে। তাঁর কথায়, "বুধবার আমাকে সেনাবাহিনী থেকে খবর দেয় ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার জানতে পারি ও আর নেই।" বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
কুন্ডিরা গ্রামের বাড়িতে রয়েছে সুজয়ের বাবা-মা-দাদা ও দাদার পরিবার। ২৮ বছরের সুজয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন পরিবারের লোকজন। তাঁদের সেই আশাও পূরণ হল না।