ফুটফুটে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে পলাশের। ছুটি শেষ করে কর্মস্থলে ফেরার সময় স্ত্রীকে বলে গিয়েছিলেন বিবাহবার্ষিকীতে এসে বাইরে ঘুরতে যাবেন। শুক্রবার তার শহিদ হওয়ার খবর পরিবারে কাছে পৌঁছায়।

শেষ আপডেট: 11 October 2025 13:05
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: তুষার ধসের পরোয়া করেননি দুজনের কেউ। জঙ্গি দমনের যে মিশন নিয়েছিলেন তা রক্ষা করতে কোনও কসুর রাখেননি। একসময় নিখোঁজ হয়ে যান দুজনেই। বাকিরা এগিয়ে যান। নিখোঁজ দুজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দুজনেই নিজেদের গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে।
জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় চলা সন্ত্রাস দমন অভিযানে গিয়ে শহিদ হয়েছেন মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার রুকুনপুর বলরামপাড়া গ্রামের সেনা জওয়ান (Indian Army)পলাশ ঘোষ। ভারতীয় সেনার এলিট প্যারা স্পেশাল ফোর্সের সদস্য ছিলেন তিনি। সেনা সূত্রে জানা গেছে, ৬ ও ৭ অক্টোবর কোকেরাংয়ের আহলান গাডোল এলাকায় জঙ্গি (Militants) দমন অভিযানে নিখোঁজ হন পলাশ ঘোষ ও ল্যান্স নায়েক সুজয় ঘোষ। কর্তব্যরত অবস্থায় তুষারধসে চাপা পড়েন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সুজয় ঘোষের দেহ উদ্ধার হয়, আর শুক্রবার উদ্ধার হয় পলাশ ঘোষের নিথর দেহ ও তাঁর বন্দুক।
দীর্ঘদিন ধরেই কাশ্মীরে কর্মরত ছিলেন তিনি। পলাশের বাবা জানান, ৪৫ দিনের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলে যান। বুধবার সেনার তরফে তাঁদের জানানো হয় অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন তাঁর ছেলে। তারপর থেকেই নাওয়া খাওয়া ভুলেছিলেন তাঁরা। শুক্রবার জানানো হয়, সেনাবাহিনীর তরফে বাড়িতে এসে ছেলের মৃত্যু সংবাদ জানানো হয় তাঁদের।
ফুটফুটে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে পলাশের। ছুটি শেষ করে কর্মস্থলে ফেরার সময় স্ত্রীকে বলে গিয়েছিলেন বিবাহবার্ষিকীতে এসে বাইরে ঘুরতে যাবেন। শুক্রবার তার শহিদ হওয়ার খবর পরিবারে কাছে পৌঁছায়। খবর পেয়ে পলাশের স্ত্রী বুল্টি ঘোষ বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। কেঁদে ভাসাচ্ছেন মা। বাবাও শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন।
আজ সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আসবে। তার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিজন ও প্রতিবেশীরা। শোকের ছায়া নেমেছে গোটা রুকুনপুর বলরামপাড়া গ্রামে।
বীরভূমের রাজনগর কুন্ডিরার নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সুজয় ঘোষের বাবা কৃষক। বাড়িতে রয়েছেন দাদা। ২০১৮ সালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। ২৮ বছর বয়সী এই জওয়ান প্যারা কমান্ডার ৫ গ্রুপের সৈনিক ছিলেন। অভিযানে যাওয়ার আগে দাদা মৃত্যুঞ্জয়কে ফোন করে জানিয়েছিলেন অভিযানে যাচ্ছেন ক’দিন আর কথা হবে না। সেটাই বাড়ির সঙ্গে শেষ কথা।