বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও। তাঁর সাফ কথা - শীত হোক, গ্রীষ্ম বা বর্ষা, বাংলার মানুষের ভরসার একটাই নাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 14 November 2025 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের নির্বাচনী সমীকরণ (Bihar Election) নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহল সরগরম, ঠিক তখনই তৃণমূল (TMC) স্পষ্ট করে বার্তা দিল যে, পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি (West Bengal Politics) একেবারেই আলাদা। তাই বিহারের (Bihar) পর বাংলাও বিজেপি (BJP) দখল করে নিতে পারবে, এমন ভাবার প্রয়োজন নেই।
এর মধ্যে বিহার ভোটের ফল কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেছে। এক কথায় বলতে গেলে - জেডিইউ জোটের (JDU+) জয়জয়কার। এই ফলাফল নিয়ে রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee) বিজেপিকে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন। কিন্তু তার পাশাপাশি বাংলা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার বার্তাও দিয়েছেন।
বিমানের কথায়, ''বিহারে বিপুল ভোট হয়েছে। এবার সবথেকে বেশি ভোট হয়েছে। আমি অভিনন্দন জানাই। কিন্তু যারা এখন উল্লোসিত হয়ে পড়ছেন, বিহার দেখে বাংলার দিকে হাত বাড়াচ্ছেন, সেটা বাড়াবাড়ি করছেন।'' অন্যদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও (Kunal Ghosh)। তাঁর সাফ কথা - শীত হোক, গ্রীষ্ম বা বর্ষা, বাংলার মানুষের ভরসার একটাই নাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
কুণালের সংযোজন, “বিহারের সমীকরণ বাংলার সঙ্গে যুক্ত নয়। তার কোনও প্রভাব আমাদের রাজ্যে (West Bengal) পড়বে না। বাংলার রাজনীতি দাঁড়িয়ে উন্নয়ন, সম্প্রীতি, আত্মসম্মান এবং মানুষের অধিকারের ভিত্তির ওপরেই।” তাঁর দাবি, এই কারণেই বাংলায় আবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এও দাবি করেন, ২০২৬-এর বিধানসভায় (West Bengal Elections 2026) ২৫০-রও বেশি আসন পেয়ে চতুর্থবার ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিহারে এনডিএ-র (Bihar NDA) জয়ে ৫ বড় কারণের মধ্যে প্রথমত, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার যে পরিমাণ জনকল্যাণ প্রকল্প মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে, তা ভোটবাক্সে বড় প্রভাব ফেলেছে।
দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা ও শান্তির ‘গ্যারান্টার’ হিসেবে নীতীশ কুমারের গ্রহণযোগ্যতা এখনও অব্যাহত - এই ভাবমূর্তিই তাঁকে এনডিএ শিবিরে অন্যতম মুখ করে রেখেছে।
তৃতীয়ত, মহিলা ভোটারদের একতরফা ভরসা এবারও এনডিএ-র পক্ষেই গেছে।
একই সঙ্গে, রাজ্যের অ-যাদব পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় (OBC), অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া ভোটার (EBC) এবং দলিতদের বড় অংশ এনডিএ-র পাশে থেকেছেন। চতুর্থ ও পঞ্চম কারণ হিসেবে এটিকেই মানছে রাজনৈতিক শিবির।
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র (NDA) বিপুল জয়ের পর উদ্যাপনে যোগ দিতে আজ সন্ধে ৬টায় দিল্লির বিজেপি প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), এমনই সূত্রের খবর।
পার্টি সদর দফতরে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে বিজয়-উৎসবে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, নির্বাচন-পরবর্তী কৌশল নিয়েও দফতরে আলোচনায় বসতে পারেন মোদী। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে তাঁর।