এদিকে এদিন মালদহ থেকে মুর্শিদাবাদে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী এই রায়ের কথা জানতে পারেন। তারপর তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, ''আমি খুব খুশি। কথায় কথায় কোর্টে কেস করে চাকরি খেয়ে নেওয়া, এটা ঠিক নয়। আমাদের উচিত চাকরি খাওয়া নয়, চাকরি দেওয়া।''

বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 3 December 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Abhijit Gangopadhayay) সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগে (Primary TET) দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগেই চাকরি বাতিলের রায় দিয়েছিলেন বর্তমানে তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘ শুনানির পর এদিন সেই মামলারই রায় শোনালেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী-র ডিভিশন বেঞ্চ। চাকরি বহাল থাকল ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের।
এই রায়ের পর দ্য ওয়ালের (The Wall News) পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের (Bikash Ranjan Bhattacharya) সঙ্গে। তিনি পরিষ্কার জানালেন, ''এই রায় দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিই প্রতিষ্ঠা পাবে।'' তাঁর আরও মত, ''বিচারপতিরা আবেগতাড়িত হয়ে ওই ৩২ হাজার পরিবারের কথা ভাবলেন, কিন্তু যে আড়াই তিন লক্ষ বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের পরিবারের কথা ভাবলেন না।''
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়ে দিলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যাওয়া উচিত। সেই সঙ্গে চাকরি বেঁচে যাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ''দুর্নীতি করে চাকরি থাকল, তবে চাপটাও থাকল। এই রায় সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হবেই। আর সুপ্রিম কোর্ট এই ধরনের একাধিক ক্ষেত্রে বারবার বলেছে, দুর্নীতি যদি হয়ে থাকে তাহলে কত বছর চাকরি করেছে সেটা বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। এই রায় সাংবিধানিক মুল্যবোধের বিরুদ্ধে।''
এদিকে এদিন মালদহ (Maldah) থেকে মুর্শিদাবাদে (Mursidabad) ফিরে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) এই রায়ের কথা জানতে পারেন। তারপর তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, ''আমি খুব খুশি। কথায় কথায় কোর্টে কেস করে চাকরি খেয়ে নেওয়া, এটা ঠিক নয়। আমাদের উচিত চাকরি খাওয়া নয়, চাকরি দেওয়া।''
প্রসঙ্গত, ঠিক কী যুক্তিতে সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ? কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court Division Bench) তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এভাবে ৯ বছর পর একসঙ্গে এতজনের চাকরি কেড়ে নেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তাঁদের পরিবার বড় সমস্যার মুখে পড়বে।
ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ - দুর্নীতির তদন্ত যেমন চলছে চলবে। কিন্তু এভাবে চাকরি বাতিল করে দিল সৎ প্রার্থীর গায়েও কলঙ্কের ছিটে লেগে যাবে। একইসঙ্গে বিচারপতিদের এও বক্তব্য, চাকরি করার সময়কালে এই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। এছাড়া এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি যে পরীক্ষকদের বেশি নম্বর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর কয়েকজন অসফল প্রার্থীর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার ক্ষতি করতে দেওয়া যেতে পারে না।