দেশের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক। গত কয়েক মাসে একাধিকবার রাজ্যে এসে সংগঠনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন তিনি। এ দিন কেন্দ্রীয় বাজেটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডিএ প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভূপেন্দ্র যাদব
শেষ আপডেট: 11 February 2026 18:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের (West Bengal) প্রাপ্য দু’লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে - এই অভিযোগে বহুদিন ধরেই সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। কিন্তু বুধবার কলকাতায় এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব সরাসরি সেই অভিযোগ খণ্ডন করলেন না। বরং বিতর্কের কেন্দ্র ঘুরিয়ে দিলেন ডিএ (DA) ইস্যুর দিকে।
বিজেপির বক্তব্য, কেন্দ্র থেকে অর্থ পাঠানো হলেও তার যথাযথ হিসাব দেয় না রাজ্য সরকার (State Govt)। সেই প্রেক্ষিতেই ভূপেন্দ্রর পাল্টা প্রশ্ন - যে সরকার নিজের কর্মীদের ন্যায্য পাওনা মেটাতে পারছে না, তারা কীভাবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বকেয়ার অভিযোগ তোলে? স্পষ্টতই তাঁর ইঙ্গিত ছিল মহার্ঘ্য ভাতা (DA) সংক্রান্ত মামলার দিকে।
দেশের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) জন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক। গত কয়েক মাসে একাধিকবার রাজ্যে এসে সংগঠনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন তিনি। এ দিন কেন্দ্রীয় বাজেটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডিএ প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানান। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধেই আদালতে লড়ছেন। এমন নজির আর কোথাও আছে?”
ভূপেন্দ্রর দাবি, দেশের অন্যান্য রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হলেও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২০ লক্ষ সরকারি কর্মী এখনও ষষ্ঠ বেতন কমিশন ও ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন করছেন।
সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের রায় উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মহার্ঘ্য ভাতা কর্মীদের ন্যায্য অধিকার। মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতেই তা দেওয়া হয় - এ কথা আদালতের পর্যবেক্ষণেও স্পষ্ট। তাঁর কথায়, “ডিএ কোনও অনুগ্রহ নয়, কর্মচারীদের প্রাপ্য।”
এসআইআর মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর সুপ্রিম কোর্টে সওয়ালের প্রসঙ্গ টেনে ভূপেন্দ্র কটাক্ষ করেন, কর্মীদের স্বার্থে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে এবং সরকার সেই মামলায় হেরেছে, এমনই দাবি তাঁর। তিনি বলেন, “এখন মুখ্যমন্ত্রীর উচিত কর্মচারীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”
এসআইআর ঘিরে কর্মীদের মৃত্যুর যে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী তুলেছেন, তা-ও উড়িয়ে দেন ভূপেন্দ্র। তাঁর বক্তব্য, ওই মৃত্যুর কারণ এসআইআর নয়, দীর্ঘদিন ডিএ না-পাওয়ার হতাশা। পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়াকে ‘অস্বচ্ছ’ করে তোলার দায়ও রাজ্যের উপরেই চাপান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
দু’লক্ষ কোটির সরাসরি জবাব এড়িয়ে ডিএ-কে সামনে এনে পাল্টা আক্রমণ, রাজ্য ও কেন্দ্রের রাজনৈতিক সংঘাতের এই পর্বে নতুন মাত্রা যোগ করল ভূপেন্দ্রর মন্তব্য।