সুর, তাল, লয় আর নৃত্যের ছন্দে মুখর হতে চলেছে কলকাতা। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে নজরুল মঞ্চে উঠবে এক অনন্য মহোৎসবের পর্দা— ‘ভারত সংস্কৃতি যাত্রা ২০২৫’। তিনদিনব্যাপী এই উৎসব যেন এক মেলবন্ধন, যেখানে মিলবে ভারতের শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যের ঐতিহ্য, আধুনিকতার স্পন্দন, আর শিল্পীদের প্রজন্মান্তরের সেতুবন্ধন।
.jpeg.webp)
ভারত সংস্কৃতি যাত্রা ২০২৫
শেষ আপডেট: 12 November 2025 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুর, তাল, লয় আর নৃত্যের ছন্দে মুখর হতে চলেছে কলকাতা। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে নজরুল মঞ্চে উঠবে এক অনন্য মহোৎসবের পর্দা— ‘ভারত সংস্কৃতি যাত্রা ২০২৫’। তিনদিনব্যাপী এই উৎসব যেন এক মেলবন্ধন, যেখানে মিলবে ভারতের শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যের ঐতিহ্য, আধুনিকতার স্পন্দন, আর শিল্পীদের প্রজন্মান্তরের সেতুবন্ধন।
২৭ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই অনুষ্ঠান। প্রথম দুই দিন থাকছে শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যের পরিবেশনা, আর শেষ দিন—২৯ নভেম্বর—রাতভর চলবে অল-নাইট ক্লাসিক্যাল মিউজিক কনসার্ট। আয়োজনের পরিধি, অংশগ্রহণকারী শিল্পীর তালিকা, আর সাংস্কৃতিক গভীরতা—সব মিলিয়ে এটি হতে চলেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম সাংস্কৃতিক উৎসব।
উৎসবের আয়োজনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পণ্ডিত প্রসেনজিৎ পোদ্দার, যিনি উৎসবের সম্পাদক, এবং শ্রী দীপক সরকার, হিন্দুস্তান আর্ট অ্যান্ড মিউজিক সোসাইটি (HAMS)-এর আহ্বায়ক।
উৎসবের আগে কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শহরের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও নৃত্যগুরুদের এক গৌরবময় তালিকা— শ্রী দেবাশিস কুমার (MLA ও উৎসবের সভাপতি), কিংবদন্তি তবলা বাদক পণ্ডিত কুমার বোস, সঙ্গীতজ্ঞ পণ্ডিত সঞ্জয় মুখার্জি, পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ, পণ্ডিত তন্ময় বোস, পণ্ডিত মলয় ঘোষ, সন্তুর মায়েস্ত্রো পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য, সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত প্রসেনজিৎ পোদ্দার, নৃত্যগুরু সঞ্চিতা ভট্টাচার্য, এবং বিশিষ্ট শিল্পী শুভরাঘ্য চট্টোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে।
প্রেস কনফারেন্সে শ্রী দেবাশিস কুমার বলেন, “কলকাতা বরাবরই ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। ‘ভারত সংস্কৃতি যাত্রা’ আমাদের ঐতিহ্যের প্রতিফলন। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীরা একত্রে মিলিত হন সুর ও ছন্দের বন্ধনে।”
পণ্ডিত কুমার বোসের কথায়, “এই যাত্রা শুধুই উৎসব নয়—এটি এক সংগীতময় ও আধ্যাত্মিক ভ্রমণ। ছন্দ, সুর ও ভক্তির মাধ্যমে এটি মানুষকে যুক্ত করে। তরুণ শিল্পীদের জন্য এটি এক অসাধারণ মঞ্চ।”
সন্তুর শিল্পী পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য বলেন, “আজকের পরিবর্তনশীল সময়ে সাংস্কৃতিক শিকড় রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। ‘ভারত সংস্কৃতি যাত্রা’ ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করছে, যা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
উৎসবের সম্পাদক পণ্ডিত প্রসেনজিৎ পোদ্দার জানালেন, “আমাদের লক্ষ্য বরাবরই ভারতীয় সংস্কৃতির সারসত্তাকে তুলে ধরা। এখানে কিংবদন্তি গুরু ও নবীন শিল্পীরা একই মঞ্চে পারফর্ম করেন। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা শান্তি, ঐক্য ও সুরের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই।”
অন্যদিকে, উৎসব আহ্বায়ক শ্রী দীপক সরকার বলেন, “প্রতিবছর এই উৎসব আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। শিল্পী ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসই আমাদের অনুপ্রেরণা। আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ সকল শিল্পী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি। তিনদিনের এই যাত্রায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি নজরুল মঞ্চে আসার জন্য।”
তিনদিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কলকাতা জুড়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাসের আবহ। সংগীত, নৃত্য ও শিল্পকলার মেলবন্ধনে ‘ভারত সংস্কৃতি যাত্রা ২০২৫’ হয়ে উঠতে চলেছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সম্মিলন—যেখানে ভারতের ঐতিহ্য, সুর ও গৌরবের প্রতিধ্বনি মিলবে এক মঞ্চে, কলকাতার বুকে।