বনধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে চলেছে ব্যাঙ্ক, বিমা, কয়লাখনি, ডাক বিভাগ, সরকারি কারখানা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে। পরিবহণ ও ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলায় জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির ছবি
শেষ আপডেট: 9 July 2025 07:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার দেশজুড়ে বনধের (Bharat Bandh) ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ। শ্রমিক ও কৃষক-বিরোধী কেন্দ্রীয় নীতির প্রতিবাদে পথে নামছেন প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী। যার জেরে এদিন ব্যাহত হতে পারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দেখা দিতে পারে বড়সড় ভোগান্তি। এদিকে এদিন সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অশান্তি এড়াতে শুরু হয়েছে ধরপাকড়।
এদিন সকালেই বনধ (Bharat Bandh) সফল করতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। এদিকে যান চলাচল সচল রাখতে তৎপর পুলিশও। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে বাম কর্মীরা। অন্যদিকে, জলপাইগুড়িতেও ছবিটা এক। বনধ সচল রাখতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে তদারকি চলছে। জলপাইগুড়িতে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রেল পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় ধর্মঘটীদের। বাস আটকালে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা।
কোন কোন পরিষেবায় প্রভাব পড়বে?
বনধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে চলেছে ব্যাঙ্ক, বিমা, কয়লাখনি, ডাক বিভাগ, সরকারি কারখানা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে। পরিবহণ ও ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC)-এর সাধারণ সম্পাদক অমরজিৎ কউর বলেন, 'সরকার আমাদের ১৭ দফা দাবি বহুদিন ধরে উপেক্ষা করে আসছে। বিগত দশ বছরে একটি বার্ষিক শ্রমিক সম্মেলনও হয়নি। বাধ্য হয়েই এবার পথে নামা।'
দেশজুড়ে রেল ধর্মঘটের (Bharat Bandh) ডাক নেই, তবু রাজ্য ও জেলা স্তরে রেল অবরোধ এবং রাস্তায় নাকাবন্দির কর্মসূচি রয়েছে। বিশেষত সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে ট্রেন চলাচলে দেরি হতে পারে। এতে সমস্যায় পড়তে পারেন নিত্যযাত্রীরা।
এখনও পর্যন্ত জাতীয় স্তরের ব্যাঙ্কিং ইউনিয়নগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে বনধে যোগ না দিলেও, সমবায় ও গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির কর্মীরা বনধে সামিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে নগদ লেনদেন ও দৈনন্দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে বহু জায়গায়। শুধু শ্রমিকই নয়, বনধে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চাও সমর্থন জানিয়েছে। ফলে চাষিরাও পথে নামতে পারেন, বাড়তে পারে আন্দোলনের ব্যাপ্তি।
বনধ ঘিরে সতর্ক রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে। ইতিমধ্যে নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বনধের দিনে সরকারি অফিসে কর্মীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ফলে বনধের প্রভাব কতটা পড়বে, কতটা অচল হয়ে পড়বে জনজীবন, তা জানা যাবে আর কিছুক্ষণ পর থেকেই। কারণ, প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে বনধের গতিপ্রকৃতির উপর। সাধারণ মানুষও আজকের দিনটা কাটাতে চাইছেন সতর্কতা ও ধৈর্যের সঙ্গে।
তবে হাসপাতাল, অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের মতো জরুরি পরিষেবা বনধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে আজ স্কুল ও খোলা রাখা হবে।