তোলাবাজির (Extortion) অভিযোগে তৃণমূলের (TMC) এক নেত্রীর স্বামীর সরকারি চাকরি গেল। মঙ্গলবার তার নির্দেশ জারি করল হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 8 July 2025 23:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তোলাবাজির (Extortion) অভিযোগে তৃণমূলের (TMC) এক নেত্রীর স্বামীর সরকারি চাকরি গেল। মঙ্গলবার তার নির্দেশ জারি করল হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট।
অভিযুক্তের নাম বরুণ দাস (Barun Das)। পুলিশি নির্দেশে বলা হয়েছে, সাঁকরাইল এলাকায় নির্মীয়মাণ বাড়ি ও দোকান থেকে জোর জুলুম করে তোলা আদায়ের অভিযোগ ছিল বরুণ দাসের বিরুদ্ধে। কোথাও বাড়ি বা দোকান তৈরি হচ্ছে খবর পেলেই বরুণ তাঁদের ফোন করত বলে অভিযোগ। তাঁর সরকারি ডিউটি থাকত রাতে। দিনের বেলায় বরুণ এসব করে বেড়াতেন।

সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী হলেন সোনালি দাস। বরুণ দাস হলেন তাঁর স্বামী। বরুণ চাকরি করতেন পুলিশে। ট্রেনি হোম গার্ড ছিলেন। তাঁকে চাকরি থেকে অবিলম্বে ও পাকাপাকি বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়ে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাতে এলাকার ধর্মীয়স্থানগুলি পাহাড়া দেওয়ার কাজ ছিল বরুণের। কিন্তু সেই স্পর্শকাতর কাজেও ফাঁকি দিতেন বরুণ।
কদিন আগে বরুণের কয়েকটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায় একটা নির্মীয়মান বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে চেপে বসে আছেন বরুণ। যাঁর জমিতে নির্মাণের কাজ চলছে সেখানে ইনিয়ে বিনিয়ে তর্ক জুড়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, বরুণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে তোলাবাজির অভিযোগ আসছিল। সেই খবর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তাদের কাছেও যায়। তার পরই কমিশনারেট থেকে নির্দেশ জারি করে এদিন সাঁকরাইল থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, গোটা ব্যাপারটা ছবির মতো পরিস্কার। স্ত্রী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। তার মানে হতে পারে বকলমে এলাকায় বরুণই ছরি ঘোরাতেন। শাসক দলের নেত্রীর স্বামী হওয়ার সুবাদে সুযোগ নিতেন। পুলিশ যে এ সব ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ করছে সেটা ইতিবাচক।
এ ব্যাপারে হাওড়ার বিজেপির নেতা মনোজ পাণ্ডে বলেন, এরকম বরুণ দাস রাজ্যের সব পঞ্চায়েতে খুঁজলেই পাওয়া যাবে। সাঁকরাইলের সেদিক থেকে ঘটনা বিচ্ছিন্ন। নইলে কাকে আর ধরা হচ্ছে!