ওই দিন অনুপস্থিত থাকলে তা ‘ডাইজ-নন’ (Dies Non) হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দিনের জন্য বেতন কাটা যাবে।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 11 February 2026 20:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১২ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টার দেশব্যাপী ধর্মঘটের (Bharat Bandh) ডাক ঘিরে কড়া অবস্থান নিল নবান্ন (Nabanna)। বুধবার জারি হওয়া অর্থ দফতরের (অডিট শাখা) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওই দিন রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর— এমনকি যেগুলি রাজ্য সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত দফতর খোলা থাকবে এবং সকল কর্মীকে কাজে যোগ দিতেই হবে (Strike)।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) কোনও কর্মীকে ক্যাজুয়াল ছুটি (Casual Leave) বা অন্য কোনও ধরনের ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। তা সে অর্ধদিবস বা পূর্ণ দিবসের জন্য হলেও। ওই দিন অনুপস্থিত থাকলে তা ‘ডাইজ-নন’ (Dies Non) হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দিনের জন্য বেতন কাটা যাবে।
তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন— কোনও কর্মী হাসপাতালে ভর্তি থাকলে, পরিবারে শোকের ঘটনা ঘটলে, ১১ ফেব্রুয়ারির আগেই গুরুতর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকলে, অথবা ১১ ফেব্রুয়ারির আগে অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মেডিক্যাল লিভ বা অর্জিত ছুটিতে থাকলে সেই অনুপস্থিতি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করতে হবে।
এ ছাড়া, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুমোদিত ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে দফতরীয় প্রধান বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ‘শো-কজ’ নোটিস জারি করবেন। সন্তোষজনক জবাব না মিললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই নির্দেশ কার্যকর করার সমস্ত প্রক্রিয়া ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করে তার রিপোর্ট অর্থ দফতরে পাঠাতে হবে। অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের সই করা এই নির্দেশে স্পষ্ট বার্তা, ধর্মঘটের ডাক সত্ত্বেও সরকারি পরিষেবা সচল রাখতেই বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার।
কেন্দ্রের শ্রম সংস্কার ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক নীতির (Economic Policies) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ভারত বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে (Bharat Bandh)। জোর প্রস্তুতি চলছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির। দাবি, ৩০ কোটিরও বেশি শ্রমিক এবার রাস্তায় নামবেন। ফলে ব্যাঙ্ক থেকে পরিবহণ, সরকারি দফতর—একাধিক পরিষেবা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
কেন্দ্র যে চারটি নতুন শ্রম আইন (Labour Codes) এনেছে, তা শ্রমিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলির দাবি, নতুন আইন মালিকদের হাতে নিয়োগ-বরখাস্তের ক্ষেত্রে বাড়তি ক্ষমতা তুলে দিচ্ছে, আর আগের বহু সুরক্ষাই কার্যত তুলে নেওয়া হয়েছে। সমস্ত কিছুর প্রতিবাদেই লক্ষ্মীবারের এই ভারত বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে।