১২ ফেব্রুয়ারি বনধ্, একাধিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নামছেন প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক। কেন্দ্রের শ্রমিক-বিরোধী ও কর্পোরেটপন্থী নীতির বিরুদ্ধেই এই আন্দোলন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 February 2026 08:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে ফের বড়সড় বিক্ষোভের প্রস্তুতি। ১২ ফেব্রুয়ারি সর্বভারতীয় ধর্মঘট (Nationwide General Strike) ডাকল ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ। তাদের দাবি, এ বার রাস্তায় নামছেন কমপক্ষে ৩০ কোটি শ্রমিক (30 crore workers)। ইতিমধ্যেই জেলা ও ব্লক স্তরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সমর্থন জানিয়েছে কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চাও (Samyukt Kisan Morcha)।
ধর্মঘটের কারণ কী?
এই যৌথ ডাক প্রথম দেওয়া হয়েছিল ৯ জানুয়ারি ২০২৫-তে। কেন্দ্রের "শ্রমিক বিরোধী, কৃষক বিরোধী এবং দেশবিরোধী কর্পোরেটপন্থী নীতির" বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জানাতেই এই আন্দোলন—এ কথাই জানাচ্ছে ইউনিয়নগুলি। অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC)-এর সাধারণ সম্পাদক আমরজিৎ কউর (Amarjeet Kaur) জানিয়েছেন, “এ বার ৩০ কোটির কম শ্রমিক নামবেন না রাস্তায়।” তাঁর দাবি, গত বছরের ৯ জুলাই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছিলেন প্রায় ২৫ কোটি। এ বার তার থেকেও বড় পরিসরে ধর্মঘট হবে ৬০০ জেলাজুড়ে—যেখানে গত বছর প্রভাব পড়েছিল প্রায় ৫৫০ জেলায়।
বিজেপি-শাসিত রাজ্যেও প্রভাব পড়বে
ধর্মঘটের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কউরের দাবি, ওড়িশা ও অসমে (Odisha, Assam) “সম্পূর্ণ শাটডাউন” হবে। অন্যান্য বিজেপিশাসিত রাজ্যেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
কৃষক, কৃষিশ্রমিক, শিক্ষার্থী—সকলের সমর্থন
যৌথ মঞ্চ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সমযুক্ত কিষান মোর্চা পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলির দাবি নিয়ে মাঠে নামা হবে। কৃষিশ্রমিকদের যৌথ ফোরামও আন্দোলনে নেমেছে মনরেগা (MGNREGA) পুনর্বহালের দাবিতে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পাঞ্চল, গ্রাম ও শহর-সব জায়গাতেই চলছে প্রচারাভিযান। অনেক জায়গায় শিক্ষার্থী ও যুব সম্প্রদায়ও যোগ দিয়েছে। সাধারণ নাগরিকরাও নানাভাবে সমর্থন জানাচ্ছেন বলে দাবি ফোরামের।
ইউনিয়নগুলির মূল দাবি
আন্দোলন ডাকা যৌথ মঞ্চে রয়েছে INTUC, AITUC, HMS, CITU, AIUTUC, TUCC, SEWA, AICCTU, LPF এবং UTUC।
১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ধর্মঘট হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। তাই আগে থেকে সকলকে সচেতন থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।