বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের প্রতিবাদে ২৭ জুলাই নানুর দিবস থেকে প্রতি শনি ও রবিবার পথে নামার আহ্বানও জানিয়েছিলেন মমতা।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 27 July 2025 19:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলায় কথা বলার জন্য একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিককে আটক হতে হয়েছে পুলিশের হাতে। কাউকে হেনস্থা করা হয়েছে, কাউকে আবার ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশে (Bangladesh)। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বলেছেন, বাংলা ভাষা 'আক্রান্ত' হচ্ছে।
২১ জুলাইয়ের (21 July) মঞ্চ থেকেও বাংলা ভাষার অধিকার নিয়ে সরব হয়েছিলেন মমতা। তাঁর দাবি, বাংলায় একের পর এক উন্নয়নে ভয় পেয়ে বঞ্চনার রাজনীতি করছে বিজেপি। শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেও মমতা বলেন, ‘‘বাংলা রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, নজরুলের জন্ম দিয়েছে। বাংলা থেকেই লেখা হয়েছে জাতীয় সঙ্গীত। বাংলা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। নবজাগরণ হয়েছে বাংলা থেকেই। সেই ভাষার উপর সন্ত্রাস চলছে কেন? বাংলার মাটি দুর্বৃত্তদের হবে না। বাংলার মানুষকে যদি বাংলা বলার জন্য বাইরে গ্রেফতার করা হয়, তা হলে এই লড়াই দিল্লিতে হবে। দরকারে আবার ভাষা আন্দোলন শুরু হবে।’’
যদিও বাংলা 'ভাষা' আক্রান্ত হচ্ছে, তা মানতে নারাজ ভাষাবিদ পবিত্র সরকার (Pabitra Sarkar)। দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "যারা বাংলা ভাষা নিয়ে এত হইচই করছেন এখন, তাঁদের নিজেদের বাংলাটা পরিচ্ছন্ন শুদ্ধ সৌজন্যসম্মত হওয়া উচিত। এটা তো সবাই মানবেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের লোকেদের কথাবার্তার মধ্যে, সেটা পুলিশকে ফোন করেই হোক বা সাধারণ সভাতেই হোক, তার মধ্যে বাংলা ভাষার অপব্যবহার যথেষ্ট হয়। এর মধ্যে একটা দ্বিচারিতা আছে বলেই আমি মনে করি।"
পবিত্রবাবু বলেন, "এটা যে ভোটের জন্য করা হচ্ছে সেটা স্পষ্ট। সকলের কাছেই ধরা পড়ছে। দেখলে বোঝা যাবে, সত্যি সত্যিই বাংলা ভাষা আক্রান্ত হয়নি। আক্রান্ত হয়েছেন কিছু বাঙালি শ্রমিক। বাঙালি ছাত্র আক্রান্ত হয়নি। বাঙালি ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, অধ্যাপক, ডাক্তার, অনেকেই আছেন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁরা কেউ আক্রান্ত হননি। হয়েছেন শ্রমজীবীরা, যাঁদের পেটের দায়ে চলে যেতে হয়েছে ওখানে। তার মূলে হয় তো একটা অর্থনীতি আছে। ওখানকার লোকেরা ভাবছে, এই রে আমাদের চাকরি খেতে এসেছে। এর মধ্যে কী জটিলতা আছে আমি জানি না। পয়সার লোভ দেখিয়ে দালালরা এঁদের ডেকে নেন। যে কারণে ওই শ্রেণির স্থানীয় লোকেদের একটা বিদ্বেষ তৈরি হয়। বিদ্বেষের নীতি ও কারণ হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা। শ্রমিকদের অনেকেই মুসলমান, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান। যে কারণে সে সব কিছু না ভেবেই তাঁদের বাংলাদেশি বলে বিদ্বেষ ফলায়। কারণ গোটা দেশেই এখন হিন্দি, হিন্দুর জিগির চলছে। যেটা কোনও কোনও দল তৈরি করছে। যে কারণে সত্যি যে বাংলা ভাষা আক্রান্ত হচ্ছে, সেটা আমার মনে হয় না।"
বস্তুত, বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের প্রতিবাদে ২৭ জুলাই নানুর দিবস থেকে প্রতি শনি ও রবিবার পথে নামার আহ্বানও জানিয়েছিলেন মমতা। যে কারণে নোবেল জয় করে বিশ্বে বাংলা ভাষার জয়ধ্বজা ওড়ানো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মভূমি থেকেই ভাষা আন্দোলন শুরু করতে চলেছে তৃণমূল।
কয়েক মাস পরই বিধানসভা নির্বাচন। প্রতিবাদের এই পদযাত্রা থেকে লালমাটির জেলার কর্মী এবং সমর্থকরা ভোটের ময়দানে নামার বার্তাও পেয়ে যাবেন বলে অনেকে মনে করছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভাষা আন্দোলন শুরুর জন্য বোলপুরকে বেছে নেওয়ার একাধিক কারণ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে এক ঢিলে অনেক পাখি মারা যাবে।