গেঁয়ো যোগী ভিখ পাই না! বহুল ব্যবহারে জীর্ণ প্রবাদ ফিরল আকাঙ্খা সাহার জীবনে। যোগাসনে আন্তর্জাতিক সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যোগ করছেন একের পর এক। তবু নিজের রাজ্যেই এখনও যেন অচেনা থেকে গিয়েছেন তিনি।একটা প্রশ্ন তাঁর মনেই নয়, অনেকেরই—“বাংলার বাইরে যদি আমি সম্মান পেতে পারি, তবে নিজের রাজ্যে কেন নয়?”

Akanksha Saha
শেষ আপডেট: 21 September 2025 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গেঁয়ো যোগী ভিখ পাই না! বহুল ব্যবহারে জীর্ণ প্রবাদ ফিরল আকাঙ্খা সাহার জীবনে। যোগাসনে আন্তর্জাতিক সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যোগ করছেন একের পর এক। তবু নিজের রাজ্যেই এখনও যেন অচেনা থেকে গিয়েছেন তিনি।
একটা প্রশ্ন তাঁর মনেই নয়, অনেকেরই—“বাংলার বাইরে যদি আমি সম্মান পেতে পারি, তবে নিজের রাজ্যে কেন নয়?”
দ্য ওয়াল-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আকাঙ্ক্ষা বলেন, ছোটবেলা থেকেই যোগার প্রতি তাঁর বিশেষ ঝোঁক ছিল। বাবা-মায়ের কাছ থেকে পূর্ণ সমর্থন পেয়েই শুরু হয় এই যাত্রা। কঠিন অনুশীলন, শৃঙ্খলা, আর আত্মবিশ্বাসই তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিক পদক জিতেছেন আকাঙ্ক্ষা। তবু বাংলায় আজও তাঁকে খুব কম মানুষই চেনেন। তাঁর আক্ষেপ, “অনেকে এখনও যোগাকে কেবল শরীরচর্চা বলে ভাবেন। অথচ যোগা মানে মন ও শরীর—দু’টোর সুস্থতা। এটা শুধু ব্যায়াম নয়, এক জীবনধারা।”
তবে এই সাফল্যের যাত্রা একেবারেই সহজ ছিল না। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন অর্থনৈতিক সঙ্কট। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার খরচ, ট্রেনিং, যাতায়াত—সব মিলিয়ে বিশাল ব্যয়। স্পনসর বা সরকারি সহায়তা না পেলে একা লড়াই করা কঠিন।
তবুও হাল ছাড়েননি আকাঙ্ক্ষা। তাঁর লক্ষ্য, বাংলার নতুন প্রজন্মকে যোগার গুরুত্ব বোঝানো। তিনি চান, বাংলার ছেলেমেয়েরাও যোগাকে পেশা হিসেবে ভাবুক, দেশকে গর্বিত করুক।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন তিনি পরিচিত হচ্ছেন “বাংলার মেয়ে” হিসেবে, তখন বাংলারই কি উচিত নয় তাঁর পাশে দাঁড়ানো? তাঁর সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত নয়, গোটা রাজ্যের গর্ব।
আকাঙ্ক্ষার আহ্বান, “যোগাকে গুরুত্ব দিন, আমায় নয়—এই পথটাকেই চিনুন। তাতেই আমি কৃতজ্ঞ থাকব!”