দ্য ওয়াল আরোগ্যের (The Wall Arogya) ‘হার্ট ভাল রাখার আর্ট’ (Heart Bhalo Rakhar Art) অনুষ্ঠানে ডক্টর কুণাল সরকারের (Doctor Kunal Sarkar) প্রস্তাব, ভোটের আগে আয়োজিত এত জনসভায় যদি সুগার ও প্রেশার মাপা যায়, অন্তত ৩% মৃত্যু রোখা সম্ভব।
.jpeg.webp)
ডক্টর কুণাল সরকার।
শেষ আপডেট: 8 September 2025 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট এলেই জনসভায় লাউডস্পিকার, পতাকা, মঞ্চ তো থাকেই। থাকে বহু মানুষের ভিড়ও। এবার থেকে যদি সেই ভিড়ের মাঝে সুগার মাপার যন্ত্র আর ব্লাডপ্রেশার মাপার মেশিন রাখা যায়, তবে অন্তত ৩% মৃত্যুকে আটকানো সম্ভব হবে এ দেশে। দ্য ওয়াল আরোগ্যের ‘হার্ট ভাল রাখার আর্ট’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে এমনই এক অভিনব প্রস্তাব রাখলেন কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ কুণাল সরকার। রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি জানালেন সোজাসাপ্টা আহ্বান।
চিকিৎসকের যুক্তি সরল। ভোটে মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশি হয় রাজনৈতিক সভাগুলোতে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ হাজির থাকেন, গরিব-ধনী, গ্রাম-শহর সব স্তরের। যদি সেখানেই এক চটজলদি পরীক্ষা হয়ে যায়, অনেক অজানা অসুখ— যেমন ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাডপ্রেশার, তবে অনেকেই ঠিক সময়ে এই অসুখ ধরা পড়ার সুবিধা পাবেন।
সহজ করে বলতে গেলে, রাজনীতি যেভাবে মানুষের কাছে পৌঁছয়, ভোটমুখী প্রচারে যেভাবে নানা পরিষেবা ঘরে ঘরে পৌঁছনোর প্রতিশ্রুতি মেলে, সত্যিকারের স্বাস্থ্য পরিষেবাও যদি সেভাবেই পৌঁছয়, তবে বহু জীবন বাঁচানো সহজ হবে।
দ্য ওয়ালের মঞ্চ থেকে চিকিৎসক কুণাল সরকার বলেন, "সামনেই ভোট আসছে। সব দলের নেতাদের কাছে আমি অনুরোধ করছি, আপনারা যদি ভোটের আগে বিভিন্ন জনসভায় সাধারণ মানুষের জন্য একটা করে গ্লুকোমিটার রাখেন, তাহলে অনেকের অনেক উপকার হবে। ব্লাড প্রেশার মাপতে পারলে তো আরও ভাল, এ দেশের মৃত্যুহারই কমে যাবে ৩ শতাংশ।"
তাঁর একথা শুনে সংযুক্ত মোর্চার বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি, যিনি নিজেও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তিনি বলেন, "খুবই ভাল প্রস্তাব। আমি আসন্ন জনসভাগুলোতে চেষ্টা করব এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করার।"
বস্তুত, আমাদের দেশে বহু মৃত্যু সময়মতো ধরা না-পড়া ডায়াবেটিস বা হাইপারটেনশনের জন্য হয়ে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা শুরু করা যায় এসব সমস্যার। তবে তা না হলে, এখান থেকেই উৎপত্তি হয় আরও নানা বড় অসুখের, যা মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-এর সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট বলছে, এই মুহূর্তে এদেশের ৭.৭ কোটি মানুষ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। এর মধ্যে ৫০%-এর বেশি মানুষ জানেই না, তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। NFHS-5 গবেষনায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস ধরা পড়েনি, এমন মানুষের মধ্যে ২৬% (প্রায় এক-চার ভাগ) মানুষ মারা পর্যন্ত যেতে পারেন undiagnosed ডায়াবেটিসে। আবার Lancet-এর তথ্য অনুযায়ী, এ দেশের ১৩ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা নিচ্ছেন না।
এরকম পরিস্থিতিতে যদি বিনামূল্য ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানোর সুযোগ পান বড় স্তরের সাধারণ মানুষ, তাহলে যে বহু রোগীই সুবিধা পাবেন, বহু অসুখ রোখা যাবে, আগে থেকে শনাক্ত করা যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই জায়গা থেকেই ডক্টর সরকারের এই প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানাচ্ছে বহু রাজনৈতিক দলই।
উত্তর কলকাতার বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ দ্য ওয়ালকে বললেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এমন উদ্যোগ প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেওয়া উচিত। রাজনৈতিক সভাতেও সুগার, প্রেসার মাপার মতো ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।"
তবে রাজনৈতিক সভায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে মূল প্রোগ্রাম বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এ ব্যাপারেও তমোঘ্ন অবশ্য ডঃ কুণাল সরকারের বার্তাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, "সুগার, প্রেশার মাপার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই এমন ব্যবস্থা রাখলে ভাল হয়। তাতে মানুষকে আরও বেশি করে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা যাবে।"
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অবশ্য একেবারে একমত নন। তিনি বলেন, "সমস্ত সবার প্রেক্ষিত আলাদা হয়। যে সব নেতা সভা করছেন, তাঁরা তো বছরে একাধিক হেলথ ক্যাম্পও করছেন। ফলে ভোটকে উপলক্ষ করেই করতে হবে, এমনটা জরুরি নয়। রাজনৈতিক সভায় এই ধরনের স্বাস্থ্য পরিষেবা শুনতে খুব ভাল। কিন্তু ওই দলই তো সারা বছর ধরে মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যায় পাশে থাকে, রক্তদান শিবির করে। ফলে রাজনৈতিক সভাতেই এই প্রেশার-সুগার মাপতে হবে, সেটা জরুরি নয়।"
এই প্রস্তাবকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও। তাঁর কথায়, "মানুষকে নিজেকেও সচেতন হতে হবে। চিকিৎসকরা বলছেন মানে তার গুরুত্ব তো আছেই। এখনও আমাদের দলের মধ্যে এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি, তাই এখনই কিছু বলতে পারব না। তবে সেরকম হলে অবশ্যই আমরা সাধুবাদ জানাব।"