নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) জয়ের পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে যা লিখেছেন তিনি, তাতে বেশ অপ্রস্তুত রাজ্যের শাসকদল।

নীতীশ কুমার ও শত্রুঘ্ন সিনহা
শেষ আপডেট: 16 November 2025 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের (Bihar Election Result) ফল বেরোনোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূলের অন্দরে নীরব অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে। নেপথ্যে, আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার (Shatrughan Sinha) একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) জয়ের পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে যা লিখেছেন তিনি, তাতে বেশ অপ্রস্তুত রাজ্যের শাসকদল। বিষয়টি নাকি ইতিমধ্যেই জানেন তৃণমূলের লোকসভা দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের কয়েকজন সাংসদ বলছেন, সংসদীয় দলের তরফে এখনই হস্তক্ষেপ করা উচিত।
শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফলে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরেছেন জেডিইউ নেতা নীতীশ কুমার। বিজেপির জোটসঙ্গী হয়েও তিনি এককভাবে বিড়ম্বনামুক্ত জয় পেয়েছেন— এমনটাই ইঙ্গিত দিয়ে শত্রুঘ্ন এক্স-এ লেখেন, “বিহারবাসী যে সরকার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, জনগণ সেই সরকারই পেয়েছে। তাদের অভিনন্দন।”
নীতীশকে তিনি বলেছেন ‘বিহারের সবচেয়ে প্রশংসিত ও ভদ্র রাজনীতিক’, পাশাপাশি ‘সফল, বিশ্বাসযোগ্য ও দীর্ঘকালীন মুখ্যমন্ত্রী’। পোস্টের শেষে যোগ করেছেন “জয় বিহার, জয় হিন্দ।”
তাঁর এই বার্তায় শুধু নীতীশ নন, ট্যাগ করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরীওয়াল, শশী তারুর-সহ কয়েকজনকে। সঙ্গে দেওয়া নীতীশের সঙ্গে তাঁর পুরনো মুহূর্তগুলোর ছবি।
অভিনেতা-রাজনীতিক শত্রুঘ্নকে রাজ্য সরকার গত নভেম্বরে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল। কিন্তু সে সম্মানের বেশ কিছু দিন পরেই তিনি বিজেপির জোটসঙ্গীকে এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন, যাতে দলেই একপ্রস্থ গুঞ্জন।
লোকসভায় তৃণমূলের ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায় বলেছেন, “উনি ব্যক্তিগত আবেগে টুইট করে থাকতে পারেন। তবে রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এই পোস্টে দেখা যায়নি।” দলের ভেতরকার বহুজনই মনে করছেন, সাংসদ যা লিখেছেন, তা ভাবমূর্তি এবং বার্তা — দুই দিকেই সমস্যার।
তৃণমূলের সঙ্গে শত্রুঘ্নের অস্বস্তির সম্পর্ক নতুন নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই বলেন— কে কী খাবেন বা পরবেন, তা নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) সমর্থন করে শত্রুঘ্নের মন্তব্য ঘিরে দলকে বিব্রত হতে হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, দেশে সব আমিষ খাবার নিষিদ্ধ হওয়া উচিত, উত্তর-পূর্বে গোমাংস ‘ইয়াম্মি’ আর উত্তর ভারতে ‘মাম্মি’— এ পার্থক্য মেনে নেওয়া যায় না। দলের তরফে তাঁকে তখন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
এ বার শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই ফের বিতর্কে জড়ালেন আসানসোলের সাংসদ। তৃণমূল এইবার কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।