এখনও জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার তালিকা যাচাই বাকি, যা মিলিয়ে আরও প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটার। ফলে, ভোটার যাচাইয়ের মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩.৫ কোটি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 16:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)। আর তাতেই ঘুম উড়েছে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) আধিকারিকদের। কারণ, কমিশনকে আগামী তিন মাসের মধ্যেই যাচাই করতে হবে রাজ্যের প্রায় ৩.৫ কোটি ভোটার, যারা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলে না।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের তালিকা এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা গিয়েছে— দু’টির মধ্যে মাত্র ৫২ শতাংশ ভোটারের তথ্য মিলে গেছে। রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা এখন ৭.৬ কোটি, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক ভোটারের তথ্য মিলছে না।
এখনও জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার তালিকা যাচাই বাকি, যা মিলিয়ে আরও প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটার। ফলে, ভোটার যাচাইয়ের মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩.৫ কোটি। কমিশন সূত্রে খবর, বিহারে ২ কোটি ভোটারকে এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করতে হয়েছিল।
তিন ধাপে চলবে ভোটার যাচাই
সূত্র অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার যাচাইয়ের কাজ হবে তিন ধাপে।
প্রথম ধাপ: ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করানো হবে। এই ধাপটি চলবে প্রায় ৩০–৩৫ দিন।
দ্বিতীয় ধাপ: তার এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে খসড়া ভোটার তালিকা।
তৃতীয় ধাপ: সংশোধন ও আপত্তি নিষ্পত্তির পর তৈরি হবে চূড়ান্ত তালিকা।
এই প্রক্রিয়া চালাতে ব্লক লেভেল অফিসার (BLO)-দের প্রশিক্ষণ ও ফর্ম বিতরণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
কমিশনের নির্দেশে সতর্কতা
বুধবার শুরু হওয়া দু'দিনেরে বৈঠকের পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা সহকর্মীদের বার্তা পাঠিয়েছেন—
“SIR যে কোনও দিন ঘোষণা হতে পারে। সাত দিনের মধ্যে ফর্ম ছাপা ও BLO-দের প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে। শুক্রবার থেকেই অনুবাদ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে।” বার্তায় আরও বলা হয়েছে, SIR ঘোষণার পরদিনই রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক হবে। সেদিনের আলোচনার বিষয়বস্তু বাংলায় অনুবাদ করে পাঠাতে হবে।
২৪ অক্টোবর থেকে খোলা কমিশনের দফতর
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) থেকে রাজ্যের সব জেলা নির্বাচন দফতর সারাদিন খোলা থাকবে। BLO, DEO ও ERO–দের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি জেলায় এবং শহরাঞ্চলে হেল্পডেস্ক খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী শ্রমিক ও বাইরের রাজ্যের কর্মীদের সাহায্যের জন্য।
কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, “এটা আমাদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ, এত বড় পরিসরে ভোটার যাচাইয়ের কাজ একসঙ্গে করা খুবই জটিল। তবু আমরা চেষ্টা করছি যাতে সব ভোটার তালিকাভুক্ত হন।”