বৃহস্পতিবারই নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে নতুন আবেদন করে রাজ্য সরকার। জানিয়েছে, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তথ্য তুলে দেওয়ার বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 February 2026 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেলডাঙা মামলায় (Beldanga Clash) কেস ডায়েরি এখনও জমা দেয়নি রাজ্য পুলিশ (West Bengal Police)। আদালতে অভিযোগ করল তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও কেস ডায়েরি হস্তান্তর করছে না রাজ্য পুলিশ। এই মর্মেই কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দৃষ্টি আকর্ষণ তাঁদের।
বৃহস্পতিবারই নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে নতুন আবেদন করে রাজ্য সরকার। জানিয়েছে, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তথ্য তুলে দেওয়ার বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। রাজ্যের প্রশ্ন, যখন বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন, তখন নিম্ন আদালত কীভাবে তথ্য হস্তান্তরের নির্দেশ দিতে পারে? যদিও এই পরিপ্রেক্ষিতে এনআইএ-র যুক্তি, কেস ডায়েরি হস্তান্তরের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তাই অবিলম্বে তা দেওয়া হোক। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হবে।
রাজ্যের মতো এনআইএ বৃহস্পতিবারও আদালতের দ্বারস্থ হয়। অভিযোগ, বেলডাঙা মামলার (Beldanga Incident) ধৃতদের কলকাতায় আদালতে হাজির করাতে গিয়ে বারবার সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের তরফে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না মেলায় অভিযুক্তদের আনা সম্ভব হচ্ছে না বলেই দাবি সংস্থার।
এনআইএ জানিয়েছে, এর আগেও দু’বার ধৃতদের কলকাতায় আনা যায়নি। শেষ শুনানিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে তাঁদের পেশ করা হয়েছিল। তবে এতে তদন্তে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের সরাসরি আদালতে হাজির করা জরুরি - এই যুক্তি তুলে ধরে সংস্থা আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছে, যাতে তারা নিজেরাই নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে অভিযুক্তদের কলকাতায় আনতে পারে।
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার এই টানাপড়েনে মামলার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে তথ্য হস্তান্তর নিয়ে আইনি প্রশ্ন, অন্যদিকে অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা নিয়ে প্রশাসনিক জট - সব মিলিয়ে বেলডাঙা মামলা নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কী নিয়ে বেলডাঙা মামলা?
চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়ায় এক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, খুন করে তাঁর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মৃতদেহ এলাকায় পৌঁছতেই বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ থেকে শুরু করে রেললাইন আটকে দেওয়া- পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
শিয়ালদহ–লালগোলা শাখার (Sealdah-lalgola Train) মহেশপুরের কাছে রেললাইনে বাঁশ ফেলে অবরোধ করেন স্থানীয়রা। বাঁশে ঝোলানো ছিল মৃতদেহের ছবি। পুলিশ পৌঁছনোর পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ায় পুলিশ। সাংবাদিকরাও আক্রান্ত হন। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে তদন্তভার চলে যায় এনআইএ-র হাতে।