আদালতের পর্যবেক্ষণ, বাবা একজন অভিযুক্ত এবং শিশুটির দেখাশোনা সংক্রান্ত কোনও দায়িত্ব পালন করেন না। তাই তাঁর নাম, পদবী সন্তান বলে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না, এটা অন্যায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 February 2026 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মতো ঘটনা বর্তমানে যেন সমাজের একটা অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই খবরের পাতায় এই ধরনের নৃশংসতার উদাহরণ চোখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই ধর্ষণের শিকার মেয়েরা গর্ভবতী হয়ে যায়। কিন্তু সন্তানের জন্মের পর সে কি 'ধর্ষক' বাবার পরিচয়ে বড় হবে? এই বিতর্ক থেকেই যেত। সম্প্রতি এমনই এক মামলায় ভারতের আইনি ইতিহাসে নতুন দিশা দেখাল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court)। আদালতের রায়, এক্ষেত্রে সন্তান তার মায়ের পদবী ব্যবহার করতে পারে (rape survivor child identity)।
এক ১২ বছরের কিশোরী এবং তার মায়ের দায়ের করা মামলায় বিচারপতি বিভা কঙ্কনওয়ারি এবং বিচারপতি হিতেন এস ভেনেগাওকারের বেঞ্চ ওই নাবালিকাকে তার স্কুলের নথিতে অভিভাবক হিসেবে মায়ের নাম, পদবী, ধর্ম ব্যবহারের অনুমতি দেয় (HC judgement on caste and surname)।
আদালত জানায়, 'যিনি একা হাতে সন্তানকে মানুষ করছেন, তাঁর পরিচয়ে সন্তান বড় হলে সমাজ দুর্বল হবে না বরং আরও সভ্য হবে।'
'এটি পিতৃতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সংবিধানসম্মত মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার পথ। একটি শিশুর জন্মের পরিস্থিতি বা অপরাধীর পরিচয় তার ওপর কোনওভাবেই বোঝা হয়ে থাকা উচিত নয়।' এই মামলায় একথাও বলে বিচারপতির বেঞ্চ।
১২ বছরের ওই কিশোরীর মা ধর্ষণের কারণে গর্ভবতী হয়ে পড়েন, কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, অভিযুক্তই তার বাবা, ফলে তার স্কুলের নথিতে অভিযুক্তর পরিচয় যুক্ত করা হয় (rape case child rights)।
২০২২ সালে নাবালিকার সব দায়িত্ব মাকে দেওয়া হয় এবং তার উপর বাবার কোনও অধিকার থাকবে না বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে মেয়ের পরিচয় বদলের আবেদন করেন নির্যাতিতা মহিলা। কিন্তু ২০২৫ সালে স্কুল শিক্ষা দফতর আবেদন খারিজ করে বলে, স্কুল কোড অনুযায়ী এই পরিবর্তনে অনুমোদন দেওয়া যায় না।
নাবালিকার হয়ে আইনজীবী যুক্তি দেন, সন্তানের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মা-ই সামলাচ্ছেন। বাবার কোনও আইনি বা নৈতিক ভূমিকা নেই। বাবার নাম থাকলে শিশুটি সামাজিকভাবে অপমান ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে পারে (child surname rights India)।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, বাবা একজন অভিযুক্ত এবং শিশুটির দেখাশোনা সংক্রান্ত কোনও দায়িত্ব পালন করেন না। তাই তাঁর নাম, পদবী সন্তান বলে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না, এটা অন্যায়।
মা যদি অভিভাবক হন (single mother legal rights), তাহলে সন্তান পরিচিতি পাবে তাঁর পরিচয়ে, এটাই যুক্তিযুক্ত ও সাংবিধানিক।
বম্বে হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় স্পষ্ট করছে-