সুরজের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, দু’জনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং দীর্ঘদিন ধরে সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পর্ক ছিল। এফআইআরে কোথাও উল্লেখ নেই যে শুরু থেকেই বিয়ের ভুয়ো প্রতিশ্রুতি (marital promise case) দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি (এআই নির্মিত)
শেষ আপডেট: 15 February 2026 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকার পরও যদি তা শেষ অবধি বিয়ে পর্যন্ত না পৌঁছায় এবং সেখানে যদি দু'জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক থাকে (Adult consensual relationship), তাহলে তাকে ধর্ষণ বলা যাবে না। আদালতের মতে, শুধু বিয়ে না হওয়া বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া- এই কারণেই ধর্ষণের মামলা করা আইনের অপব্যবহার হতে পারে।
মুসৌরির এক তরুণী অভিযোগ করেন, সুরজ বোরা নামের এক যুবক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন (consent in relationships)। ৪৫ দিনের মধ্যে বিয়ে করবেন বলেও আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তরুণী মামলা করেন। তদন্তের পর পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে।
এরপর সুরজ বোরা হাইকোর্টে (Uttarakhand High Court) আবেদন করে বলেন, দু'জনেরই সম্মতিতে সম্পর্ক এগিয়েছে, তাই এটিকে ধর্ষণ বলা যাবে না।
সুরজের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, দু’জনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং দীর্ঘদিন ধরে সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পর্ক ছিল। এফআইআরে কোথাও উল্লেখ নেই যে শুরু থেকেই বিয়ের ভুয়ো প্রতিশ্রুতি (marital promise case) দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে। সম্পর্ক ভাঙা মানেই প্রতারণা নয় এবং এর ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা হওয়া উচিত নয়।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকার ও অভিযোগকারীর আইনজীবীদের দাবি, তরুণী শুধু বিয়ের আশ্বাসেই সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছিলেন তাই বিয়ে না করায় অবশ্যই তাঁর সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি ভুয়ো ছিল কিনা তা বিচার চলাকালীন প্রমাণ হতে পারে, তাই মামলাটি চলা উচিত।
হাইকোর্টের বিচারপতি বলেন, "বিয়ের উদ্দেশ নিয়ে সম্মতি দিলে এবং পরে বিয়ে না হলে সেই সিদ্ধান্ত ভুল হয়ে যায় না। এছাড়া ধর্ষণের অভিযোগ টিকিয়ে রাখতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে শুরু থেকেই বিয়ে করার কোনও ইচ্ছে ছিল না। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক এবং বারবার সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক এটাই বোঝায় যে এটি ‘পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্ক’, প্রতারণা নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এমন পরিস্থিতিতে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তের প্রতি অযথা হয়রানি।
হাইকোর্ট এই মামলা খারিজ করেছে। পাশাপাশি ২০২৩-এর চার্জশিটও বাতিল করে দিয়েছে।