সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ বা হঠাৎ কোনও অভিযোগ- এসবই পারিবারিক জীবনের অংশ, কিন্তু এগুলো বিচ্ছেদের যথেষ্ট কারণ নয়।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 15 February 2026 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ছ'দশকের দাম্পত্য জীবনে টুকটাক মতবিরোধ থাকতেই পারে- একটি ডিভোর্স মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ রাজস্থান হাইকোর্টের (Rajasthan High Court)। প্রবীণ দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের আর্জি খারিজ (divorce plea rejected) করে আদালত জানিয়ে দিল, ছোটোখাটো ঝগড়া বা মতবিরোধকে কখনওই 'নির্যাতন' হিসেবে ধরা যায় না। বিয়ের দীর্ঘ পথচলার উত্থান-পতন স্বাভাবিক, আর এত বছরের সম্পর্কে বিচ্ছেদ হলে (elderly couple divorce case) তা শুধু স্ত্রীকে নয়, পুরো পরিবারের সম্মান ও মানসিক স্থিতি নষ্ট করতে পারে।
রাজস্থানের এই দম্পতির বিয়ে হয় ১৯৬৭ সালের ২৯ জুন। ২০১৩ সাল, ৪৬ বছর পর্যন্ত সুখেই ছিলেন, কোনও অভিযোগ ছিল না। কিন্তু ২০১৪ সালে প্রৌঢ় আদালতে ডিভোর্সের মামলা (Divorce case) করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, স্ত্রী নাকি পণপ্রথা নিয়ে মিথ্যে এফআইআর করেছিলেন যা পরে পুলিশি তদন্তে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। এতে তিনি অপমানিত বোধ করেন।
তাঁর আরও দাবি, সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে স্ত্রী বড় ছেলের পক্ষে (Property Dispute)। কিন্তু তিনি চাইছেন সম্পত্তি দুই সন্তানের মধ্যে সমানভাগে ভাগ হোক। প্রৌঢ়ের কথায়, স্ত্রী তাঁকে অবহেলা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন।
অন্যদিকে স্ত্রী আদালতে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী নাকি ছোট ভাইয়ের প্রভাবে সম্পত্তি নষ্ট করছেন এবং পরিবারের মধ্যেই ভাগ বাটোয়ারা করছেন। এমনকি স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কে ছিলেন এবং তিনি এক মহিলাকে নিজের ঘরে নিয়ে আসতেন। সেই কারণেই তিনি এফআইআর দায়ের করেছিলেন।
স্ত্রী আরও দাবি করেন, যার জন্য পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয়েছে সেই সম্পত্তিটি আসলে তিনি নিজেই কিনেছিলেন।
এই অবস্থায় রাজস্থান হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি সুদেশ বনশল এবং বিচারপতি অনিল কুমার উপমান প্রৌঢ়ের আবেদন খারিজ করেন। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এত দীর্ঘ দাম্পত্যে জীবনে দু'জনের মানসিক বোঝাপড়া বেড়ে ওঠা স্বাভাবিক।
সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ বা হঠাৎ কোনও অভিযোগ- এসবই পারিবারিক জীবনের অংশ, কিন্তু এগুলো বিচ্ছেদের যথেষ্ট কারণ নয় (long-term marriage dispute)। আদালতের মতে, উভয়ের বক্তব্যেই সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে জানায়, বিবাহবিচ্ছেদ হলে শুধু স্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, সন্তানদের ওপরও তার গভীর প্রভাব পড়বে এবং পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।