ব্রহ্মপুত্রের তলায় সুড়ঙ্গ নির্মাণে কেন্দ্রের সিলমোহর, প্রায় ১৮,৬৬২ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে মিলল সবুজ সংকেত।

টানেলের প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 February 2026 12:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমে (Assam) তৈরি হতে চলেছে দেশের প্রথম সড়ক–রেল যৌথ সুড়ঙ্গ (Road and Rail Tunnel) ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদীর তলায়। ১৮,৬৬২ কোটি টাকার এই প্রকল্পে গোহপুর (Gohpur) থেকে নুমালীগড় (Numaligarh) পর্যন্ত গড়ে উঠবে চার লেনের অ্যাকসেস-কন্ট্রোলড গ্রিনফিল্ড করিডর। কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (Cabinet Committee on Economic Affairs) ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে ইঞ্জিনিয়ারিং–প্রকিউরমেন্ট–কনস্ট্রাকশন বা ইপিসি (EPC) মডেলে।
এটি শুধু ভারতের প্রথম আন্ডারওয়াটার রোড-অ্যান্ড-রেল টানেলই নয়, বিশ্বে দ্বিতীয় এমন প্রকল্প বলেও দাবি করা হয়েছে।
২৪০ কিমি থেকে সরাসরি সংযোগ
বর্তমানে নুমালীগড় (NH-715) থেকে গোহপুর (NH-15) পৌঁছতে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। কালিয়াভোমোরা হয়ে সিলঘাট (Silghat) পেরিয়ে যাত্রা—সময় লাগে প্রায় ছ’ঘণ্টা। সেই দীর্ঘ পথ কমিয়ে আনবে নতুন করিডর।
এই রুট কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান (Kaziranga National Park) ও বিশ্বনাথ শহর (Biswanath) দিয়ে যায়। নতুন প্রকল্প চালু হলে সময় ও দূরত্ব দুটোই কমবে। ফলে যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই পণ্য পরিবহণেও গতি আসবে।
সরকারের দাবি, এই করিডর ১১টি অর্থনৈতিক কেন্দ্র, ৩টি সামাজিক কেন্দ্র, ২টি পর্যটন কেন্দ্র এবং ৮টি লজিস্টিক হাবকে যুক্ত করবে। পাশাপাশি চারটি বড় রেলস্টেশন, দুটি বিমানবন্দর ও দুটি অভ্যন্তরীণ জলপথের সঙ্গে সংযোগ জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তর-পূর্বে কৌশলগত গুরুত্ব
এই প্রকল্পের প্রভাব শুধু অসমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh), নাগাল্যান্ড (Nagaland)-সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ উন্নত হবে। লজিস্টিক খরচ কমবে, শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কৌশলগত দিক থেকেও প্রকল্পটির গুরুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) উত্তর-পূর্বে প্রথম ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফিল্ডে (Emergency Landing Field) সি-১৩০জে (C-130J) বিমানে অবতরণ করেন। ডিব্রুগড়–মোরান স্ট্রেচে (Dibrugarh-Moran) তৈরি সেই অবকাঠামো জরুরি অবস্থায় ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) ফাইটার জেট ও পরিবহণ বিমানের জন্য ব্যবহারযোগ্য।
চিন ফ্যাক্টরও আলোচনায় রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্রুত যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতি ও সংযোগে নতুন দিশা
ব্রহ্মপুত্রের তলায় এই টানেল চালু হলে উত্তর-পূর্বে মালবাহী পরিবহণে সময় কমবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। বহুদিনের দাবি ছিল এমন একটি সরাসরি সংযোগের।
১৮,৬৬২ কোটির এই প্রকল্প কার্যকর হলে শুধু রাস্তা নয়, বদলে যাবে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র। এখন নজর বাস্তবায়নের গতির দিকে।