দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখের গালওয়ান নদীর উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে চিন সেনাবাহিনী সরিয়ে নিয়েছে আজই। দীর্ঘ আলোচনার পরে এই প্রথম আজ, সোমবার পিছু হটেছে চিন সেনা। সামরিক পরিভাষায় যাকে বলে ডিসএনগেজমেন্ট, তেমনটাই ঘটেছে আজ। এর পরেই জানা গেল, এ নিয়ে গতকাল অর্থাৎ রবিবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে টেলিফোনে বৈঠক করেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। সেই ফোনালাপের পরেই সোমবার এই পদক্ষেপ লাল ফৌজের।
জানা গেছে, ডোভাল ও ওয়াং-এর আলোচনায় উঠে এসেছে, সীমান্তে স্থিতাবস্থা ও শান্তি ফেরানোর জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পর্যবেক্ষণ জরুরি বলে সহমত হয়েছে চিন। এর পরে চিন সেনা সরালে ভারতও সরে আসে। এর পরে আজ সোমবার এক বিবৃতি জারি সরকার বলেছে, "এই ডিজএনগেজমেন্ট আরও আগে হতে পারত। আশা করছি, এই ডিসজএনগেজমেন্ট জারি থাকবে আগামী দিনেও।"
সংঘাত গত মাস থেকেই শুরু হয়েছে। সীমান্তে ক্রমেই এগিয়ে এসেছে চিন। এর পরে ১৫ জুন চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ২০ জন ভারতীয় সেনার। আহত হন ৭৬ জন। চিনের তরফেও ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করা হয়। তবে কতজন পিএলএ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে তা বেজিং স্পষ্ট করেনি।
ওই সংঘর্ষের পর ২৩ জুন ফের লেফটেন্যান্ট পর্যায়ের বৈঠক হয়। তারপর আরও দু’বার নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন চিন ও ভারতের লেফটেন্যান্ট পর্যায়ের আধিকারিকরা। এর মধ্যেই একাধিক উপগ্রহ চিত্র সামনে এসেছে। যেখানে দেখা গিয়েছে চিনাবাহিনী শুধু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের অনেকটা ভিতরে ঢুকে আসেনি, তারা তাঁবু বানিয়েছে, অস্ত্রও সাজিয়ে ফেলেছে।
গত সপ্তাহেও, গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পরে সমাধান খুঁজতে তৃতীয় দফায় আলোচনায় বসেন ভারত ও চিনা সেনাবাহিনীর শীর্ষকর্তারা। পরে জানা যায়, সেই বৈঠক থেকে কোনও রফাসূত্র মেলেনি।
এর পরে গত শুক্রবার হঠাৎ লেহ সফরে চলে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে দু’দিনের সফর সেরে এসেছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। লেহতে গিয়ে সেনাবাহিনীর প্রশংসার পাশাপাশি চিনের নাম না করে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মোদী। বলেন, “সাম্রাজ্য বিস্তারের জমানা খতম হয়ে গিয়েছে। এখন উন্নয়নের জমানা। ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হয় পরাস্ত হয়েছে, কিংবা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে”।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, তারপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই জানা গেল, অনেকটা পিছু হঠেছে চায়না বাহিনী। লাদাখে গিয়ে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ ও আলোচনা তাই চিনের উদ্দেশে এক কড়া বার্তা বলেই মনে করছেন অনেকে।