দু’দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে ঢুকবে। প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি ১ মার্চ থেকে মোতায়েন হবে। ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি পৌঁছবে। বাহিনীর মধ্যে রয়েছে সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি।

শ্যামল মণ্ডল
শেষ আপডেট: 27 February 2026 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) দিন এখনও ঘোষণা হয়নি। তার আগেই ১ মার্চ থেকে বাংলাজুড়ে মোতায়েন হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। এই আগাম উপস্থিতি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাসন্তীর তৃণমূল বিধায়ক শ্যামল মণ্ডলের (TMC MLA Shyamal Mondal) মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
দু’দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে ঢুকবে। প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি ১ মার্চ থেকে মোতায়েন হবে। ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি পৌঁছবে। বাহিনীর মধ্যে রয়েছে সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি। ভোটের সূচি ঘোষণার আগে এমন মোতায়েন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন শ্যামল মণ্ডল।
তাঁর অভিযোগ, এত আগে বাহিনী পাঠানো কার্যত ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’। সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার হলে গ্রাম বাংলার মানুষ প্রতিবাদে নামবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, প্রয়োজন হলে মহিলারাও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। এই মন্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
শ্যামল মণ্ডল বলছেন, ''এত আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছে এটা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছাড়া কিছু নয়। তাঁরা যদি সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করে তাহলে বাংলার মানুষ তা সহ্য করবে না। গ্রাম বাংলার মেয়েরা দরকারে প্রতিবাদ করবে, ঝাঁটা হাতে প্রতিরোধ করবে, এমনকি ঝাঁটা পেটাও করবে।''
তাঁর এও দাবি, ভোট ঘোষণার অনেক আগে এভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের খেলা যা তাঁরা করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের অঙ্গুলিহেলনে।
জেলাভিত্তিক বণ্টনেও নজর কাড়ছে কয়েকটি এলাকা। পূর্ব মেদিনীপুরে পাঠানো হচ্ছে ১৪ কোম্পানি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা হওয়ায় সেখানে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। কলকাতা ও মালদহে ১২ কোম্পানি করে মোতায়েনের কথা রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরে ১০, কোচবিহার ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে ৯ করে বাহিনী থাকবে।
মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর ও হাওড়া রুরাল পুলিশ জেলায় ৮ কোম্পানি করে মোতায়েন হবে। চন্দননগর কমিশনারেট ও পূর্ব বর্ধমানেও ৮ কোম্পানি। দার্জিলিংয়ে ৬, শিলিগুড়ি কমিশনারেট ও কালিম্পংয়ে ৩, জলপাইগুড়িতে ৭, আলিপুরদুয়ারে ৫ কোম্পানি যাবে। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর ও রায়গঞ্জে যথাক্রমে ৫ ও ৬ কোম্পানি, নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও রানাঘাটে ৬ করে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া হাওড়া কমিশনারেটে ৭, হুগলি রুরালে ৬, বারাসতে ৬, বনগাঁয় ৪, বসিরহাটে ৭, বিধাননগরে ৪ কোম্পানি থাকবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও ডায়মন্ড হারবারে ৫ ও ৬, সুন্দরবনে ৪, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭, ঝাড়গ্রামে ৫, বাঁকুড়ায় ৭, পুরুলিয়ায় ৫ এবং বীরভূমে ৭ কোম্পানি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কিছু এলাকায় অশান্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তাতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।