দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমিত সংখ্যক ভক্ত নিয়ে চারধাম যাত্রায় সম্মতি দিয়েছিল উত্তরাখন্ড সরকার। কিন্তু তাতে স্থগিতাদেশ দিল উত্তরাখন্ড হাইকোর্ট। বলল, যাত্রার অনুমতি দেওয়া উচিত হবে না। জনস্বার্থেই তাদের এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে আদালত। তবে চারধামের তীর্থক্ষেত্রগুলির দৈনিক পুজোপ্রার্থনা ও আচার অনুষ্ঠান লাইভ স্ট্রিমিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি স্থির হয়েছে ৭ জুলাই।
গত ২৫ জুন রাজ্যের বিজেপি সরকার ১ জুলাই থেকে চারটি তীর্থক্ষেত্র যে যে জেলায় অবস্থিত, শুধু সেখানকার পূণ্যার্থীদের দিয়ে যাত্রা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জেলাগুলি হল চামোলি, উত্তরকাশী ও রুদ্রপ্রয়াগ। কেদারনাথ রুদ্রপ্রয়াগে, বদ্রীনাথ মন্দির চামোলি জেলায়, যমুনোত্রী ও গঙ্গোত্রী উত্তরকাশী জেলায়।
রাজ্য মন্ত্রিসভা ঠিক করে, শুধু যাত্রী সংখ্যাই কমবে না, তাদের প্রত্যেককে বাধ্যতামূলক ভাবে আরটি-পিসিআর টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট আনতে হবে।
প্রধান বিচারপতি আর এস চৌহান ও বিচারপতি অলোক ভার্মার বেঞ্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মধ্যে রাজ্য সরকারের দায়ের করা হলফনামায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলে, রাজ্য সরকারের প্রস্তুতিতে, বিশেষতঃ স্বাস্থ্য পরিষেবামূলক ব্যবস্থাপনা ও এই তিন জেলায় কোভিড ভ্যাকসিন প্রদানের অবস্থায় তারা সন্তুষ্ট নয়।
চারধাম যাত্রা হবে বলে যখন ঠিক করে রাজ্য প্রশাসন, তখন সংশ্লিষ্ট ৩ জেলার বাসিন্দাদের জন্য বাড়তি কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনের ডোজের ব্যবস্থা করা হয়। যাত্রা প্রক্রিয়ায় সামিল সকলের জন্য এসেছিল ওই ভ্যাকসিন। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর ওই জেলাগুলির জন্য আরও ৫ হাজার ডোজের বন্দোবস্ত করা হয়। তবে উত্তরকাশীর জন্য আরও ১০ হাজার অতিরিক্ত ভ্যাকসিনের ডোজ এসেছে। তেহরি, পৌরি জেলার জন্যও অতিরিক্ত ডোজ পাঠানো হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তীরথ সিং রাওয়াত যাত্রা শুরুর আগে যারা সরাসরি ভক্তদের সংস্পর্শে আসবে, তাদের সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে বলেছিলেন, যাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও তীর্থযাত্রী, সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। পূজারী, দোকানী, ধাবার লোকজন, স্থানীয় বাসিন্দা, খচ্চর অপারেটর, ক্যাব চালক ও চারধাম যাত্রার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সময়মতো ভ্যাকসিন দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের গাই়ডলাইনও দেওয়া হয়।
জুনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মুখ্যমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখেন, কোভিড ১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হলে তিনি যেন চারধাম দর্শনে আসেন।